ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ডোপ টেস্টের’ খবর শুনেই উধাও এসআই মামুন শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলে রাজধানীতে জামায়াতের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ হাদি হত্যা নিয়ে মমতার বিতর্কিত মন্তব্য, জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে পটুয়াখালীর চাঞ্চল্যে: একই ঘরে দুই তরুণী, ‘বাসর’ সাজিয়ে রাতযাপন ইরান সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব; আকাশচুম্বী তেলের দামে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ ডাকসুর অনার বোর্ডে ২০১৯ সালের জিএস হিসেবে রাশেদ খাঁনের নাম মাদক উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ভারত, তবুও যে কারণে মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প! সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেও কেন এআই উন্নয়ন নিয়ে এতো মরিয়া ট্রাম্প?

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস সংগ্রহ করেছে। সক্রিয় সামরিক সদস্যদের দেওয়া এসব ছবিতে একটি বিচ্ছিন্ন রাডার বিমান, চূর্ণবিচূর্ণ ট্রেইলার এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা যায়।

তারিখবিহীন এসব ছবি সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে তোলা হয়েছে।

সিবিএসের সঙ্গে কথা বলা, তবে নাম প্রকাশ না করা একজন সামরিক সদস্য বলেছেন, ‘‘আমাদের ঘাঁটিগুলোতে এটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, যা মার্কিন জনগণের কাছে জানানো হয়নি।আমরা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি, আর মুখে ঘুষি খাচ্ছি।’’

হোয়াইট হাউস এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।

ছবিগুলোর সত্যতা বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে এগুলো প্রকাশিত হয়েছে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনের একদিন পর, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে থাকা শত শত ভবন ও স্থাপনা ইরানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।

একটি ছবিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি দেখা যায়, যা দুই টুকরো হয়ে গেছে এবং যার লেজের অংশ ধাতব টুকরোর জটলায় পিষ্ট হয়ে গেছে।

ছবিটির তারিখ উল্লেখ করা না থাকলেও, বিবিসি ভেরিফাই এর আগে মার্চ মাসে একই ধরনের একটি ছবি যাচাই করেছিল, যা দৃশ্যত একই রাডারবাহী বিমানকে দেখায়।

বোয়িং ই-থ্রি অ্যাওয়াকস বিমানগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু দীর্ঘ দূরত্ব থেকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়া যায়।

সেই সময় একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিং থেকে পাওয়া বলে উল্লেখ করা তারিখবিহীন দুইটি ছবিতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেইলার এবং একটি বড় তাঁবুসদৃশ স্থাপনা দেখা যায়, যা সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তেও দেখা যায়।

কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানের একটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত চারতলা একটি ভবনের চিত্রও আরেকটি ছবিতে দেখা যায়।

মার্চ মাসে ওই স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সংক্রান্ত সরঞ্জামের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এই ছবিটি একই হামলার সময়ের কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ছবিগুলো প্রকাশিত হয়েছে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনের পরপরই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলায় “কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে”।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরঞ্জামগত ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭০ কোটি ডলার (২ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ছিল ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৩৪০ ডলার (২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড)।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের মাসগুলোতে ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’’- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নথিতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, যা ‘‘সৌদি আরবে ইরানি গোলাবারুদের আঘাতে মাটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’’।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর জনসাধারণ ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো ইরানের যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে ভোট দেয় এবং এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করবে।

কয়েকজন রিপাবলিকানের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই সম্ভবত প্রতিনিধি পরিষদে এ ধরনের শেষ ভোট।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডোপ টেস্টের’ খবর শুনেই উধাও এসআই মামুন

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতির চিত্র

আপডেট সময় ১২:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস সংগ্রহ করেছে। সক্রিয় সামরিক সদস্যদের দেওয়া এসব ছবিতে একটি বিচ্ছিন্ন রাডার বিমান, চূর্ণবিচূর্ণ ট্রেইলার এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা যায়।

তারিখবিহীন এসব ছবি সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে তোলা হয়েছে।

সিবিএসের সঙ্গে কথা বলা, তবে নাম প্রকাশ না করা একজন সামরিক সদস্য বলেছেন, ‘‘আমাদের ঘাঁটিগুলোতে এটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, যা মার্কিন জনগণের কাছে জানানো হয়নি।আমরা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি, আর মুখে ঘুষি খাচ্ছি।’’

হোয়াইট হাউস এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।

ছবিগুলোর সত্যতা বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে এগুলো প্রকাশিত হয়েছে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনের একদিন পর, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে থাকা শত শত ভবন ও স্থাপনা ইরানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।

একটি ছবিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি দেখা যায়, যা দুই টুকরো হয়ে গেছে এবং যার লেজের অংশ ধাতব টুকরোর জটলায় পিষ্ট হয়ে গেছে।

ছবিটির তারিখ উল্লেখ করা না থাকলেও, বিবিসি ভেরিফাই এর আগে মার্চ মাসে একই ধরনের একটি ছবি যাচাই করেছিল, যা দৃশ্যত একই রাডারবাহী বিমানকে দেখায়।

বোয়িং ই-থ্রি অ্যাওয়াকস বিমানগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু দীর্ঘ দূরত্ব থেকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়া যায়।

সেই সময় একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।

কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিং থেকে পাওয়া বলে উল্লেখ করা তারিখবিহীন দুইটি ছবিতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেইলার এবং একটি বড় তাঁবুসদৃশ স্থাপনা দেখা যায়, যা সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তেও দেখা যায়।

কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানের একটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত চারতলা একটি ভবনের চিত্রও আরেকটি ছবিতে দেখা যায়।

মার্চ মাসে ওই স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সংক্রান্ত সরঞ্জামের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এই ছবিটি একই হামলার সময়ের কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ছবিগুলো প্রকাশিত হয়েছে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনের পরপরই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলায় “কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে”।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরঞ্জামগত ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭০ কোটি ডলার (২ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ছিল ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৩৪০ ডলার (২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড)।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের মাসগুলোতে ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’’- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নথিতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, যা ‘‘সৌদি আরবে ইরানি গোলাবারুদের আঘাতে মাটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’’।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর জনসাধারণ ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো ইরানের যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে ভোট দেয় এবং এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করবে।

কয়েকজন রিপাবলিকানের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই সম্ভবত প্রতিনিধি পরিষদে এ ধরনের শেষ ভোট।