ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের মুখোমুখি অবস্থানে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

 

জামায়াত এমপি আয়েজিত সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জামায়াত এমপি আয়েজিত সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘বগা সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুপুর ১টার দিকে বগা ফেরিঘাটে পৌঁছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন তিনি। সভার আয়োজন করেন জামায়াতের মনোনয়নে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

 

তবে মন্ত্রীর ওই সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।

 

প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান টোটনসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

 

স্থানীয়দের দাবি, জামায়াত আয়োজিত সভায় সেতুমন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেন।

 

পরে দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শেখ রবিউল আলম। সমাবেশে তিনি বলেন, বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের লেখা একটি চিঠি ও ভিডিওচিত্র একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বগা সেতু’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের মুখোমুখি অবস্থানে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

 

জামায়াত এমপি আয়েজিত সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জামায়াত এমপি আয়েজিত সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘বগা সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুপুর ১টার দিকে বগা ফেরিঘাটে পৌঁছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন তিনি। সভার আয়োজন করেন জামায়াতের মনোনয়নে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

 

তবে মন্ত্রীর ওই সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলা হয়। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।

 

প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান টোটনসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

 

স্থানীয়দের দাবি, জামায়াত আয়োজিত সভায় সেতুমন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেন।

 

পরে দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শেখ রবিউল আলম। সমাবেশে তিনি বলেন, বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের লেখা একটি চিঠি ও ভিডিওচিত্র একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বগা সেতু’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।