ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

মসজিদের ভেতরে চলছে জানাজা, বাইরে অশ্রুসিক্ত নয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিবেশীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

এবার মসজিদের ভেতরে চলছে জানাজার নামাজ। বাইরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। কারও চোখে অশ্রু, কারও মুখে শোকের ছাপ। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও প্রয়াত ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাদের টেনে এনেছে শেষ বিদায়ের আয়োজনে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদে দেখা যায় এমন দৃশ্য।  মুসলিম প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানের (৯৫) জানাজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

আব্দুর রহমান কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসলমানদের পাশাপাশি শোকাহত হন তার দীর্ঘদিনের সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিচিতজন ও প্রতিবেশীরাও। স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডেও তার ভূমিকা ছিল। এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিল তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মসজিদের পাশের সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজার সময় মসজিদের পেছনের মাঠে দাঁড়িয়ে অংশ নেন পৌর এলাকার শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা, সুজিত কুমার সাহা, মধুসূদন সাহা ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বিপদসহ কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা বলেন, ‘মরহুম আব্দুর রহমান সাহেব এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী ছিলেন। আমার প্রয়াত বাবার সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর সংবাদে অন্যদের মতো আমরাও শোকাহত হয়েছি। তাই শেষ বিদায়ের সময়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘আব্দুর রহমান সাহেব খুবই বিনয়ী মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তার শেষ বিদায়ের সময়ে উপস্থিত হতে পেরে মনে হলো, একজন আপনজনকেই বিদায় জানাতে এসেছি।সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘এলাকার কারও মৃত্যু আমাকে শোকাহত করে। ধর্ম কখনো মানুষের সম্পর্ককে আলাদা করে দিতে পারে না। মরহুম আব্দুর রহমান খুবই সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত।স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের কারণেই ধর্মের ভিন্নতা ভুলে একে অন্যের সুখদুঃখে পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে কটিয়াদীতে। আব্দুর রহমানের জানাজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি সেই সম্প্রীতিরই একটি মানবিক বহিঃপ্রকাশ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য হাতে সময় খুবই কম: বীণা সিক্রি

মসজিদের ভেতরে চলছে জানাজা, বাইরে অশ্রুসিক্ত নয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিবেশীরা

আপডেট সময় ১০:২৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

এবার মসজিদের ভেতরে চলছে জানাজার নামাজ। বাইরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। কারও চোখে অশ্রু, কারও মুখে শোকের ছাপ। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও প্রয়াত ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাদের টেনে এনেছে শেষ বিদায়ের আয়োজনে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদে দেখা যায় এমন দৃশ্য।  মুসলিম প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানের (৯৫) জানাজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

আব্দুর রহমান কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসলমানদের পাশাপাশি শোকাহত হন তার দীর্ঘদিনের সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিচিতজন ও প্রতিবেশীরাও। স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডেও তার ভূমিকা ছিল। এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিল তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মসজিদের পাশের সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজার সময় মসজিদের পেছনের মাঠে দাঁড়িয়ে অংশ নেন পৌর এলাকার শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা, সুজিত কুমার সাহা, মধুসূদন সাহা ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বিপদসহ কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা বলেন, ‘মরহুম আব্দুর রহমান সাহেব এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী ছিলেন। আমার প্রয়াত বাবার সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর সংবাদে অন্যদের মতো আমরাও শোকাহত হয়েছি। তাই শেষ বিদায়ের সময়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘আব্দুর রহমান সাহেব খুবই বিনয়ী মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তার শেষ বিদায়ের সময়ে উপস্থিত হতে পেরে মনে হলো, একজন আপনজনকেই বিদায় জানাতে এসেছি।সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘এলাকার কারও মৃত্যু আমাকে শোকাহত করে। ধর্ম কখনো মানুষের সম্পর্ককে আলাদা করে দিতে পারে না। মরহুম আব্দুর রহমান খুবই সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত।স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের কারণেই ধর্মের ভিন্নতা ভুলে একে অন্যের সুখদুঃখে পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে কটিয়াদীতে। আব্দুর রহমানের জানাজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি সেই সম্প্রীতিরই একটি মানবিক বহিঃপ্রকাশ।