ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ভরাডুবির পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে (ছাত্রদল) নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও এক নম্বর ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখায় নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তাও বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডাকসু ও জাকসুতে ছাত্রশিবিরের কাছে পরাজয়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়াল বৈঠকে ছাত্রদলের কার্যক্রম ও দুর্বলতা নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। একইসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ছাত্রদলকে পুনর্গঠনের বিষয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
ছাত্রদলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি ছাত্র রাজনীতিতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। অপরদিকে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
কে আসতে পারেন নতুন নেতৃত্বে—এ নিয়ে বিভিন্ন সেশনের নেতাদের নাম আলোচনায় আসছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ সেশন এবং ঢাবি শাখায় ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৫-১৬ সেশনের নেতাদের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও নেতৃত্ব আসতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আপাতত দলে আলোচনা হয়নি। সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ছাত্রদলের অনেক পদপ্রত্যাশী ইতোমধ্যে নিজেদের সিভি, বায়োডাটা ও পোর্টফোলিও প্রস্তুত করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন। ফলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি কমিটিতে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

