খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিএনপির আহ্বায়ক মিন্টু মোল্লার বিরুদ্ধে শালিস বিচার ও ব্যবসায়িক বিরোধে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলীয়ভাবে এ ধরনের বিরোধে স্থানীয় নেতাদের সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

ব্যবসায়ী খলিলের অভিযোগ

স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিল মাদবর জানান, সেলিম রেজা ওরফে আবদারের সঙ্গে যৌথভাবে ইটভাটা ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। পরে লোকসানের দায়ভার একাই বহন করতে হয় তাকে। আদালত ও পিবিআই তদন্ত শেষে মালিকানা তার পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে তিনি ভাটা লিজ দেন হেদায়েত ও হায়দার মোড়লকে। খলিলের দাবি, হেদায়েতের কাছ থেকে মিন্টু মোল্লা ১০ লাখ টাকার ইট নিলেও টাকা পরিশোধ করেননি, বরং হুমকি-ধামকি দিয়ে ইট বিক্রিতে বাধা দেন। টাকা চাইতে গেলে হেদায়েত মারধরের শিকার হন। খলিল আরও অভিযোগ করেন, থানায় সালিশে ডাকা হলে মিন্টু মোল্লা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয়ও মিন্টু মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিএনপির পদ ব্যবহার করে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।

মিন্টু মোল্লার বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে মিন্টু মোল্লা বলেন, তিনি ঠিকাদারি কাজের সুবাদে চুক্তির মাধ্যমে ইট কিনতেন, যা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। খলিল ভাটাটি লিজ দেওয়ার পর অপর মালিক আবদার বিষয়টি জানতে পেরে লিজের টাকা দাবি করেন। তখন তিনি পূর্ববর্তী চুক্তিপত্র প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে পেশ করেন। এ কারণেই খলিল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন মিন্টু মোল্লা।

পুলিশের অবস্থান

দিঘলিয়া থানার ওসি এইচএম শাহীন বলেন, ইটভাটার মালিকানা নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আমরা তা বন্ধ করে দিয়ে আদালতের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাই। পরে আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং দুই পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।