যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধের জন্য জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকার করা শত শত যুগলকে নিয়ে গণবিয়ের আয়োজন করেছে ইরান। রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেশিনগান বসানো সামরিক জিপে করে হাজির হন বর-কনেরা। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই আয়োজনকে যুদ্ধকালীন মনোবল বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম দুনিয়া নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুতির ঘোষণা দেয়া দম্পতিদের নিয়ে রাজধানী তেহরানে গণবিয়ের আয়োজন করেছে ইরান। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে এই বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল ইমাম হোসেইন চত্বরে আয়োজিত গণবিয়ের অনুষ্ঠানে শতাধিক দম্পতি অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসব অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যাতে যুদ্ধকালীন সময়ে জনমনে উৎসাহ ও মনোবল বাড়ানো যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর কার্যকর হওয়া নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই আয়োজন করা হলো।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এসব দম্পতি ‘নিজেদের উৎসর্গ’ করার কর্মসূচিতে নাম লিখিয়েছিলেন। ফার্সি ভাষায় যার নাম ‘জানফাদা’। এই কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতির অঙ্গীকার করে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে মানবশৃঙ্খল গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ লাখো মানুষ এই কর্মসূচিতে নাম লিখিয়েছেন। ইমাম হোসেইন চত্বরে আয়োজিত গণবিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া দম্পতিরা মেশিনগান বসানো সামরিক জিপে করে অনুষ্ঠানে আসেন।
একজন ধর্মীয় আলেমের তত্ত্বাবধানে মঞ্চে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বেলুনে সাজানো ওই মঞ্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিশাল ছবিও টাঙানো ছিল। মেহর বার্তা সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে সাদা ইসলামিক বিয়ের পোশাক পরা এক তরুণী বলেন, ‘নিশ্চয়ই দেশ যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, কিন্তু তরুণদেরও বিয়ে করার অধিকার আছে।’
তবে প্রতিবেদনে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আরেক তরুণ তার হবু স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, তারা খুশি যে অনুষ্ঠানটি হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতিমা (রা.)-এর বিয়ের বার্ষিকীর দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বরকত পেয়েছি। পাশাপাশি রাস্তায় থাকা মানুষের জন্য শুভকামনাও জানাতে এসেছি।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















