ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়ে ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রেতা ছিলেন: ফজলুর রহমান মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় তথ্য গোপন নয়, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ জাকির নায়েকের সঙ্গে আজহারির সাক্ষাৎ, উপহার পেলেন ‘বিশেষ আতর’ আবারও বাড়ল নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের ক্লাব রুমের নাম ফলক ভাঙচুর ইরানের সরকার পতন ও হামাস-হিজবুল্লাহকে নির্মূল করব: নেতানিয়াহু সৌদির অনুরোধে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে ইরানকে চীনের বার্তা, প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে আলোচনায় যারা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়: আইনমন্ত্রী

সরাসরি তদারকির দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী, হচ্ছে তদন্তও

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্যাসের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাসাবাড়ি, পরিবহন ও শিল্পকারখানা। জ্বালানি সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্যাস সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন, এলএনজি কার্গো সংগ্রহ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই সংকটের শুরু। ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে সচল হলেও স্বাভাবিক সরবরাহে ফিরতে পারেনি। সর্বশেষ এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বিকেল ৩টা থেকে টার্মিনালটি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।

এখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৬ থেকে ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে।

এদিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটিকে সহযোগিতা না করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এমনকি কমিটির সদস্যরা মাতারবাড়ি পৌঁছানোর পরও তাদের টার্মিনালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও পরিদর্শনে গিয়ে টার্মিনালে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

অন্যদিকে, সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় কেনা এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ২৩ আগস্ট একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি এলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল আবার চালু করে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক করার আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম, বিশেষ করে এলএনজি ক্রয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত জানাতে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে শত শত কারখানা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। একই সঙ্গে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

বুধবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।

সব মিলিয়ে দীর্ঘায়িত গ্যাস সংকট নিয়ে চাপে পড়েছে সরকার। সংকটের কারণ, এলএনজি ক্রয়ে গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরো পরিস্থিতি তদারক করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়ে ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

সরাসরি তদারকির দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী, হচ্ছে তদন্তও

আপডেট সময় ১০:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্যাসের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাসাবাড়ি, পরিবহন ও শিল্পকারখানা। জ্বালানি সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্যাস সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন, এলএনজি কার্গো সংগ্রহ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই সংকটের শুরু। ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে সচল হলেও স্বাভাবিক সরবরাহে ফিরতে পারেনি। সর্বশেষ এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বিকেল ৩টা থেকে টার্মিনালটি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।

এখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৬ থেকে ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে।

এদিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটিকে সহযোগিতা না করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এমনকি কমিটির সদস্যরা মাতারবাড়ি পৌঁছানোর পরও তাদের টার্মিনালে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও পরিদর্শনে গিয়ে টার্মিনালে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

অন্যদিকে, সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় কেনা এলএনজি কার্গো সময়মতো না আসায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ২৩ আগস্ট একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি এলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল আবার চালু করে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক করার আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম, বিশেষ করে এলএনজি ক্রয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত জানাতে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে শত শত কারখানা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। একই সঙ্গে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

বুধবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।

সব মিলিয়ে দীর্ঘায়িত গ্যাস সংকট নিয়ে চাপে পড়েছে সরকার। সংকটের কারণ, এলএনজি ক্রয়ে গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরো পরিস্থিতি তদারক করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।