ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ বাউফলের কৃতি সন্তান বিশ্বজয়ী হাফেজ জাকারিয়াকে ড. মাসুদ এমপির অভিনন্দন রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বং’স, মা/দ/ক চোরাচালানসহ নানা অপ’ক’র্মে জড়িত: সেনাপ্রধান এটি চালু হলেই শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ, আবার সচল সেই খনি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২০ কর্মকর্তা নিয়ে বৈঠকে ইসি নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ১৭ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, তার মধ্যে পুলিশ ছিল এক নম্বরে: ডিআইজি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন দীপু মনি

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন; এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মতামত চাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, সংবিধান অনুসারে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, সংবিধান অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। ৭০ অনুচ্ছেদ এই সরকার করেনি। আবার ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যে সরকার এসেছিল, তারাও সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনেনি। তাই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে।

এদিকে,  আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি বেছে নেয়ার আয়োজন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তারপরও ভোটের মাঠ ছাড়েনি বিরোধী জোট। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। এই নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী থাকায় বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। সাড়ে তিন দশক পর এবারের চিত্র ভিন্ন। সংসদে দুইতৃতীয়াংশ আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে।

এই বিবেচনায় সংসদের মোট ৩৪৯ আসনের মধ্যে ২৪৭টিই ক্ষমতাসীন দলের। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তবুও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ায়নি বিরোধী জোট। জামায়াত জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্যের অলি আহমদকে প্রার্থী করে ভোটের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নির্বাচনে বাড়তি উষ্ণতা তৈরি করেছে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। এরপর শুরু হবে ভোট গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন সংসদ সদস্যরা। নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন তারা।

ভোট দেয়ার আগে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন সংসদ সদস্যরা। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে আবারও পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে এ নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজেও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। অন্যদিকে, অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। তাই তিনি ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভোট গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভোটদান বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবারও সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। এর আগে গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

আপডেট সময় ১২:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন; এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মতামত চাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, সংবিধান অনুসারে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, সংবিধান অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। ৭০ অনুচ্ছেদ এই সরকার করেনি। আবার ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যে সরকার এসেছিল, তারাও সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনেনি। তাই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে।

এদিকে,  আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি বেছে নেয়ার আয়োজন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তারপরও ভোটের মাঠ ছাড়েনি বিরোধী জোট। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। এই নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী থাকায় বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। সাড়ে তিন দশক পর এবারের চিত্র ভিন্ন। সংসদে দুইতৃতীয়াংশ আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে।

এই বিবেচনায় সংসদের মোট ৩৪৯ আসনের মধ্যে ২৪৭টিই ক্ষমতাসীন দলের। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তবুও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ায়নি বিরোধী জোট। জামায়াত জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্যের অলি আহমদকে প্রার্থী করে ভোটের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নির্বাচনে বাড়তি উষ্ণতা তৈরি করেছে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। এরপর শুরু হবে ভোট গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন সংসদ সদস্যরা। নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন তারা।

ভোট দেয়ার আগে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন সংসদ সদস্যরা। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে আবারও পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে এ নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজেও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। অন্যদিকে, অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। তাই তিনি ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভোট গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভোটদান বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবারও সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। এর আগে গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)