ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারছেন না অলি আহমদ ২২ আগস্ট থেকে শুরু কলেরার টিকা, পাবেন যারা বিশ্বকাপের পর ‘জঘন্য প্রচারণা’ ছড়ানো ব্যক্তিদের সমালোচনা করলেন আর্জেন্টিনা ফুটবলের সভাপতি সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বগুড়ায় নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকার হিসাব দেননি আম্মার এআই ক্যামেরায় শনাক্তে মোটরসাইকেলের সামনেও বসবে নম্বর প্লেট নেতানিয়াহু ‘নেশাগ্রস্ত জুয়াড়ির মতো’ আচরণ করছেন: সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরা হলো না, অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ঝরল প্রাণ ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস-আসিফসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আস্থা তৈরি হলেই ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

সম্প্রতি রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন থাকলেও এসব খবর অনুমাননির্ভর। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্য, পারস্পরিক সম্মান এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ইতিবাচকভাবে ভাববে। তবে সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ভারসাম্য

বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফরের প্রস্তুতিও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার কথা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আশাবাদ

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও আশার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কারণে জটিলতা কাটতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

আফ্রিকায় নতুন বাজারের সন্ধান

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫২টি দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।

এই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে আফ্রিকায় বাংলাদেশের পণ্যের নতুন বাজার তৈরি এবং কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক চাপ

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজে লাগানোর কথাও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। মিয়ানমার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান তিনি।

হুমায়ুন কবিরের দাবি, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে একটি সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারছেন না অলি আহমদ

আস্থা তৈরি হলেই ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

সম্প্রতি রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন থাকলেও এসব খবর অনুমাননির্ভর। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্য, পারস্পরিক সম্মান এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ইতিবাচকভাবে ভাববে। তবে সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ভারসাম্য

বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফরের প্রস্তুতিও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার কথা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আশাবাদ

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও আশার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কারণে জটিলতা কাটতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

আফ্রিকায় নতুন বাজারের সন্ধান

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫২টি দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।

এই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে আফ্রিকায় বাংলাদেশের পণ্যের নতুন বাজার তৈরি এবং কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক চাপ

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজে লাগানোর কথাও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। মিয়ানমার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান তিনি।

হুমায়ুন কবিরের দাবি, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে একটি সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।