ঢাকা , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে নেওয়া হলো থানায়, গাড়িতে আগুন জনতার শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকস্বাধীনতা হরণ করল শুভেন্দুর সরকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর রজার এলিয়টের মর্মান্তিক মৃত্যু পল্লবীতে শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন উৎপাদন করছে ইরান বিশ্বকাপে নেইমারের খেলা নিয়ে সংশয়! অনলাইন জুয়া খেলার অপরাধে দেশে প্রথম গ্রেপ্তার মেহেরপুরে

এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকস্বাধীনতা হরণ করল শুভেন্দুর সরকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

 

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের মুক্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাধীনতার ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ নিল বিজেপি সরকার। সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, সব ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসসহ রাজ্যের অধীনস্থ সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান, লেখালেখি বা যেকোনও মিডিয়া কার্যকলাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও নিশ্ছিদ্র নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন।

 

মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল গত ১৯ মে সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত একটি হাইভোল্টেজ নির্দেশিকা জারি করেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি অনুষ্ঠানেও যোগদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

 

রাজ্যে সকল আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস-এর আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা বলবৎ থাকবে।

 

কোনও সংবাদমাধ্যমে সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র প্রকাশ করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী সংবাদপত্র, পত্রিকায় লেখালেখি, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা, পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়ম ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অযথা সমালোচনা করা ও নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও স্পনসর্ড বা বেসরকারি সংস্থার প্রযোজিত মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি অনুষ্ঠানটি যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষকতাতেও হয়, কিন্তু তার প্রযোজনা যদি বাইরের কোনও বেসরকারি সংস্থা করে—তাহলেও পূর্বানুমতি ছাড়া তাতে যোগ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে।

 

অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারি আচরণ বিধি (১৯৫৯ ও ১৯৮০)-র বিভিন্ন ধারা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

সচিবালয় বলেছে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কোনও সরকারি কর্মী কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন বা প্রিন্ট মিডিয়া—কোনও প্ল্যাটফর্মেই সরকারের বিরুদ্ধে কলম ধরা বা মুখ খোলা যাবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকস্বাধীনতা হরণ করল শুভেন্দুর সরকার

আপডেট সময় ১১:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

 

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের মুক্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাধীনতার ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ নিল বিজেপি সরকার। সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, সব ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসসহ রাজ্যের অধীনস্থ সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান, লেখালেখি বা যেকোনও মিডিয়া কার্যকলাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও নিশ্ছিদ্র নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন।

 

মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল গত ১৯ মে সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত একটি হাইভোল্টেজ নির্দেশিকা জারি করেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি অনুষ্ঠানেও যোগদানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

 

রাজ্যে সকল আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস-এর আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা বলবৎ থাকবে।

 

কোনও সংবাদমাধ্যমে সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র প্রকাশ করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী সংবাদপত্র, পত্রিকায় লেখালেখি, কোনও পত্রিকা সম্পাদনা, পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়ম ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অযথা সমালোচনা করা ও নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও স্পনসর্ড বা বেসরকারি সংস্থার প্রযোজিত মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি অনুষ্ঠানটি যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষকতাতেও হয়, কিন্তু তার প্রযোজনা যদি বাইরের কোনও বেসরকারি সংস্থা করে—তাহলেও পূর্বানুমতি ছাড়া তাতে যোগ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে।

 

অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৬৮ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারি আচরণ বিধি (১৯৫৯ ও ১৯৮০)-র বিভিন্ন ধারা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

সচিবালয় বলেছে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কোনও সরকারি কর্মী কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন বা প্রিন্ট মিডিয়া—কোনও প্ল্যাটফর্মেই সরকারের বিরুদ্ধে কলম ধরা বা মুখ খোলা যাবে না।