ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শপথের আগে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মসজিদের ইমাম-খাদেমের বদলে সাম্মানীর তালিকায় জামায়াত নেতাদের নাম ৪৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে ফিরছেন রোনালদিনহো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন পরিকল্পনা মির্জা ফখরুলকে আসিফ আলি জারদারির অভিনন্দন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ হাসপাতাল থেকে ফের কারা/গারে ইমরান খান রাষ্ট্রপতি বাবার হাতে ফুল, মেয়ের মুখে কৃতজ্ঞতা মাছের বাজারে আগুন, হাত দেওয়া যাচ্ছে না মুরগি-ডিমেও রাষ্ট্রপতির পুরোনো পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে জুমা লিখলেন, ‘ওয়াদা পূরণ করুন’ ‘আপনিই আমার সব’, ট্রাম্পকে লেখা ব্যক্তিগত সহকারীর চিঠি ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি ও জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি এসব অটোরিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য প্রয়োজনীয় সৌর চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

একসময় রাজধানীর অলিগলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রধান সড়কেও ব্যাপকভাবে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। দ্রুতগতির এসব তিন চাকার যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী কোনো না কোনোভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশাজনিত দুর্ঘটনার শিকার হন।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিদিন এ খাতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, যার বড় অংশই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, একটি অটোরিকশা প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াটের সমপরিমাণ চাপ তৈরি করছে এই খাত, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৫ শতাংশ।

রাজধানীতেও রয়েছে হাজারো অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও গ্যারেজে অবৈধ সংযোগ নিয়ে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ। এসব অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধন ও নবায়নের সময় সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক সোলার চার্জিং স্টেশন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নিরাপদ চার্জার, মিটারভিত্তিক বিলিং এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলমের মতে, শুধু সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে চার্জিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন। তাই স্টোরেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত হাইব্রিড পদ্ধতিতে যেতে হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে একদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং ও বিদ্যুৎ অপচয় কমতে পারে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শপথের আগে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি ও জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি এসব অটোরিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য প্রয়োজনীয় সৌর চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

একসময় রাজধানীর অলিগলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রধান সড়কেও ব্যাপকভাবে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। দ্রুতগতির এসব তিন চাকার যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী কোনো না কোনোভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশাজনিত দুর্ঘটনার শিকার হন।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিদিন এ খাতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, যার বড় অংশই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, একটি অটোরিকশা প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াটের সমপরিমাণ চাপ তৈরি করছে এই খাত, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৫ শতাংশ।

রাজধানীতেও রয়েছে হাজারো অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও গ্যারেজে অবৈধ সংযোগ নিয়ে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ। এসব অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধন ও নবায়নের সময় সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক সোলার চার্জিং স্টেশন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নিরাপদ চার্জার, মিটারভিত্তিক বিলিং এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলমের মতে, শুধু সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে চার্জিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন। তাই স্টোরেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত হাইব্রিড পদ্ধতিতে যেতে হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে একদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং ও বিদ্যুৎ অপচয় কমতে পারে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।