সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের চার হাফেজ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ নিজে উপস্থিত হতে না পারলেও তার নির্দেশে কর্মকর্তারা বিজয়ীদের স্বাগত জানান।
ধর্মমন্ত্রী চার হাফেজকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া চারজনই পুরস্কার অর্জন করেছেন। একজন প্রথম এবং বাকি তিনজন তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের অর্জন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত এবারের আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন হাফেজ অংশ নেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
প্রতিযোগিতার চতুর্থ গ্রুপে পুরুষদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মুহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল। একই গ্রুপে নারীদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন রাবেতা বিনতে রমজান। তার পুরস্কারের অর্থ এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।
এ ছাড়া তৃতীয় গ্রুপে পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতে তৃতীয় হয়েছেন শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। তারাও প্রত্যেকে এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল করে পুরস্কার পেয়েছেন।
মুহাম্মদ জাকারিয়া নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ের আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান পড়াশোনা করছেন রাজধানীর ডেমরার মারকাযুল মাদীনা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায়।
অন্যদিকে, রাবেতা বিনতে রমজান উত্তরার তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদরাসা এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ পুরান ঢাকার ওয়ারীর সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী।
গত বুধবার পবিত্র মসজিদুল হারামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল।
এবারের প্রতিযোগিতার পাঁচটি গ্রুপে মোট ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। বাংলাদেশের চার হাফেজের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে এনেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















