ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প আঘাত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৯০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা আর্জেন্টিনার সামনে ‘শক্তিশালী’ কেপ ভার্দে, অপেক্ষায় স্পেন কওমী মাদরাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বেই বিদায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের

ইসরায়েলের কাছে আটক ছেলের মরদেহ, কবর দেয়ার অপেক্ষায় ফিলিস্তিনি মা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি সেনারা মাহমুদ সানাকরাকে গুলি করে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার মা এখনো অপেক্ষায় আছেন ছেলের মরদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য। ৬৭ বছর বয়সী জামিলা সানাকরার তিন ছেলে। সবাই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার দুই সন্তানকে ইসরায়েল হত্যা করেছে, তা তিনি নিশ্চিত জানেন। তবে, তৃতীয় ও সবচেয়ে ছোট ছেলে মাহমুদকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে, নিজ ঘরে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি কমান্ডোরা। এরপর সেনারা তাকে নিয়ে যায়, আর কখনো পরিবারকে ফিরিয়ে দেয়নি।

তিনি এখনো জানেন না ছেলে বেঁচে আছে, নাকি মৃত। অনিশ্চয়তা তার শোক আর মানসিক যন্ত্রণাকে আরও গভীর করেছে। ‘ফিলিস্তিনি মায়েরা তাদের সন্তানকে দুইবার বয়ে নিয়ে যায়—একবার গর্ভে, আরেকবার জানাজার মিছিলে,’ নিজের বাড়িতে বসে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন জামিলা।

প্যালেস্টাইনি ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিকভারি অব মার্টার্স’ বডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ সম্ভবত সেই ২ হাজার ২২০ জনের একজন, যাদের মরদেহ দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে নিয়ে ইসরায়েল সংরক্ষণ করে রেখেছে—ফ্রিজে বা নাম্বারকৃত কবরস্থানে।

জেরুজালেম লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টার (জেএলএসি) বলছে, ইসরায়েল এভাবে মরদেহ আটকে রাখাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রিয়জনকে শেষবার বিদায় জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। অসংখ্য ফিলিস্তিনি মায়ের মতোই জামিলাকেও বঞ্চিত করা হয়েছে—শেষ ছেলেকে কবর দেয়ার সুযোগ থেকে। তিনি কবরস্থানে একটি কবর বানিয়ে রেখেছেন এবং আশা করছেন হয়তো তার ছেলের মরদেহ ফিরে পাবেন এবং দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। সূত্র: আল জাজিরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত

ইসরায়েলের কাছে আটক ছেলের মরদেহ, কবর দেয়ার অপেক্ষায় ফিলিস্তিনি মা

আপডেট সময় ১১:১৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি সেনারা মাহমুদ সানাকরাকে গুলি করে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার মা এখনো অপেক্ষায় আছেন ছেলের মরদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য। ৬৭ বছর বয়সী জামিলা সানাকরার তিন ছেলে। সবাই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার দুই সন্তানকে ইসরায়েল হত্যা করেছে, তা তিনি নিশ্চিত জানেন। তবে, তৃতীয় ও সবচেয়ে ছোট ছেলে মাহমুদকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে, নিজ ঘরে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি কমান্ডোরা। এরপর সেনারা তাকে নিয়ে যায়, আর কখনো পরিবারকে ফিরিয়ে দেয়নি।

তিনি এখনো জানেন না ছেলে বেঁচে আছে, নাকি মৃত। অনিশ্চয়তা তার শোক আর মানসিক যন্ত্রণাকে আরও গভীর করেছে। ‘ফিলিস্তিনি মায়েরা তাদের সন্তানকে দুইবার বয়ে নিয়ে যায়—একবার গর্ভে, আরেকবার জানাজার মিছিলে,’ নিজের বাড়িতে বসে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন জামিলা।

প্যালেস্টাইনি ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিকভারি অব মার্টার্স’ বডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ সম্ভবত সেই ২ হাজার ২২০ জনের একজন, যাদের মরদেহ দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে নিয়ে ইসরায়েল সংরক্ষণ করে রেখেছে—ফ্রিজে বা নাম্বারকৃত কবরস্থানে।

জেরুজালেম লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টার (জেএলএসি) বলছে, ইসরায়েল এভাবে মরদেহ আটকে রাখাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রিয়জনকে শেষবার বিদায় জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। অসংখ্য ফিলিস্তিনি মায়ের মতোই জামিলাকেও বঞ্চিত করা হয়েছে—শেষ ছেলেকে কবর দেয়ার সুযোগ থেকে। তিনি কবরস্থানে একটি কবর বানিয়ে রেখেছেন এবং আশা করছেন হয়তো তার ছেলের মরদেহ ফিরে পাবেন এবং দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। সূত্র: আল জাজিরা।