দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের রিমান্ডের বিরোধিতা করেছেন তাদের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি আদালতে বলেছেন, গাজী নজরুল একজন মুক্তিযোদ্ধা ও চারবারের সংসদ সদস্য। তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই বয়স্ক। তারা পালিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তি নন।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে এসব কথা বলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তিনি দুই আসামির জামিনও আবেদন করেন।
আইনজীবী বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হোক, সেটি তারাও চান। তদন্তে তারা সহযোগিতা করবেন। কিন্তু মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মতো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুদ্দোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন।
পিপি আদালতে বলেন, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে গাজী নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর তাকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে মামলাও হয়েছিল। গাজী নজরুল ন্যাম ভবনের যে বাসায় থাকতেন, সেখানে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন।পিপি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হাতে লেখা চিঠিতে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা লিখেছেন। তার আত্মহত্যার পেছনে হত্যার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
রিমান্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামিরা ঘটনার বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। মরিয়ম গলায় ফাঁস দেওয়ার সময় আসামিরা বাসায় উপস্থিত ছিলেন। আত্মহত্যার পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্ররোচনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















