ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে মসজিদে সোফা বসিয়ে সংসদ সদস্যের সভা দেশের ইতিহাসে বড় আকারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে পদত্যাগ করলেন আরও এক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আওয়ামী লীগকে পেছনের দরজা দিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে: গোলাম পরওয়ার রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দল পেল রেকর্ড আসন, আরো শক্ত হলো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়িয়েও লিটারে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী ‘আমার মেয়ের হাতের লেখা এমন নয়’—বললেন গাজী নজরুলের শাশুড়ি ‘বিরোধী দল লংমার্চের নামে শোভাযাত্রা করলেও আওয়ামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও করছে না’ হঠাৎ কেন সপরিবারে ৩ দেশ সফরে জামায়াতের ৩৪ এমপি

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দল পেল রেকর্ড আসন, আরো শক্ত হলো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে। তিন দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের ডুমায় দলটি ৩৫৫টি আসন পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো বেড়েছে।

সোমবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা এ ফল ঘোষণা করেন। এর আগে ডুমায় ইউনাইটেড রাশিয়ার সর্বোচ্চ আসন ছিল ৩৪৩টি। নতুন ফল সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

 

৩৫৫টি আসন পাওয়ায় ইউনাইটেড রাশিয়া এমন একটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রেখেছে দলটি।

 

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সেনা পাঠানোর পর এটিই ছিল প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। তবে নির্বাচনে ক্রেমলিনের সমালোচক কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী দলগুলো কার্যত অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো একমাত্র দলটিকেও নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়।

 

ক্রেমলিন এই ফলকে রুশ জনগণের ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ফলাফল রুশ সমাজে রাষ্ট্রপ্রধান পুতিনকে ঘিরে ‘সর্বোচ্চ মাত্রার সংহতি’র ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

পুতিন ১৯৯৯ সালের শেষ দিন থেকে রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে চলছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনেও ক্রমেই বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে মস্কো।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ৫৯ শতাংশের বেশি ছিল। পামফিলোভা দাবি করেন, রাশিয়ার ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ থাকা সত্ত্বেও মানুষ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের শেষ দিনে ইউক্রেন মস্কোর ওপর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি চালায়। এতে দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

পামফিলোভা বলেন, ‘চরম পরিস্থিতির’ মধ্যেও নির্বাচন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসাও করেন।

 

নির্বাচনের এই ফল পুতিনের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় নতুন করে সেনা সমাবেশ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে পুতিন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে।

 

ইউনাইটেড রাশিয়ার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি—৪০টি। জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি আসন এবং নিউ পিপল পার্টি পেয়েছে ২০টি।

 

ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচনটি যুদ্ধ নিয়ে রুশ জনগণের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রেও ক্রেমলিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চেচনিয়ায় দীর্ঘদিনের নেতা রমজান কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চেচনিয়ায় কাদিরভের বিরোধিতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয় এবং সেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

 

এদিকে পুতিনের রাজনৈতিক বিরোধীদের অনেকে নির্বাসনে, কারাগারে রয়েছেন কিংবা মারা গেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রধান বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি, যিনি ২০২৪ সালে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মারা যান।

 

রাশিয়ার নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও সমালোচনা করেছেন। তিনি রাশিয়ার নির্বাচনকে ‘তথাকথিত’ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্রেমলিন ভিন্নমত দমন করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী একমাত্র নিবন্ধিত দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও প্রবেশাধিকার দেয়নি। তার ভাষ্য, রাশিয়ায় গণতন্ত্রের কেবল বাহ্যিক আবরণটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে।

সূত্র: ডন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দল পেল রেকর্ড আসন, আরো শক্ত হলো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ

আপডেট সময় ০৯:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে। তিন দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের ডুমায় দলটি ৩৫৫টি আসন পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো বেড়েছে।

সোমবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা এ ফল ঘোষণা করেন। এর আগে ডুমায় ইউনাইটেড রাশিয়ার সর্বোচ্চ আসন ছিল ৩৪৩টি। নতুন ফল সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

 

৩৫৫টি আসন পাওয়ায় ইউনাইটেড রাশিয়া এমন একটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য ধরে রেখেছে দলটি।

 

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সেনা পাঠানোর পর এটিই ছিল প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। তবে নির্বাচনে ক্রেমলিনের সমালোচক কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী দলগুলো কার্যত অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো একমাত্র দলটিকেও নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়।

 

ক্রেমলিন এই ফলকে রুশ জনগণের ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ফলাফল রুশ সমাজে রাষ্ট্রপ্রধান পুতিনকে ঘিরে ‘সর্বোচ্চ মাত্রার সংহতি’র ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

পুতিন ১৯৯৯ সালের শেষ দিন থেকে রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে চলছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনেও ক্রমেই বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে মস্কো।

 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ৫৯ শতাংশের বেশি ছিল। পামফিলোভা দাবি করেন, রাশিয়ার ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ থাকা সত্ত্বেও মানুষ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের শেষ দিনে ইউক্রেন মস্কোর ওপর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি চালায়। এতে দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

পামফিলোভা বলেন, ‘চরম পরিস্থিতির’ মধ্যেও নির্বাচন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসাও করেন।

 

নির্বাচনের এই ফল পুতিনের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় নতুন করে সেনা সমাবেশ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে পুতিন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে।

 

ইউনাইটেড রাশিয়ার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি—৪০টি। জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি আসন এবং নিউ পিপল পার্টি পেয়েছে ২০টি।

 

ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচনটি যুদ্ধ নিয়ে রুশ জনগণের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রেও ক্রেমলিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চেচনিয়ায় দীর্ঘদিনের নেতা রমজান কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চেচনিয়ায় কাদিরভের বিরোধিতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয় এবং সেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

 

এদিকে পুতিনের রাজনৈতিক বিরোধীদের অনেকে নির্বাসনে, কারাগারে রয়েছেন কিংবা মারা গেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রধান বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি, যিনি ২০২৪ সালে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মারা যান।

 

রাশিয়ার নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও সমালোচনা করেছেন। তিনি রাশিয়ার নির্বাচনকে ‘তথাকথিত’ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্রেমলিন ভিন্নমত দমন করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী একমাত্র নিবন্ধিত দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও প্রবেশাধিকার দেয়নি। তার ভাষ্য, রাশিয়ায় গণতন্ত্রের কেবল বাহ্যিক আবরণটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে।

সূত্র: ডন