ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে ৪ জন গ্রেপ্তার যদি খারাপই করেন তাহলে আওয়ামী লীগের দোষ কী ছিল: রুমিন ফারহানা ঘর ভাড়া পরিশোধে অসহায় মায়ের মাথার চুল বিক্রি জামায়াতের কভারেজে অমায়িক ব্যবহার পান, জানালেন নারী সাংবাদিক ক্লাবে ঢুকে মাতলামি, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার ‘পাটওয়ারীর ওপর মার শুরু হয়েছে কেবল, আসল মার তো শুরুই হয়নি’ আলমারিতে জমানো ২ লাখ টাকা খেলো ইঁদুর-উইপোকা, নিঃস্ব কৃষক মন্ত্রীরা নিজেই চাঁদাবাজি করলে বন্ধ করবেন কীভাবে-প্রশ্ন জামায়াত আমিরের ইসরায়েল ‘অবৈধ’, মুসলিম দেশগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে: গণপূর্ত মন্ত্রী

২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে নিজের প্রাণ হারানো শিক্ষিকা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • ৯১০ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চারদিকে যখন শোকের মাতম, তখন উঠে এসেছে এক শিক্ষিকার আত্মত্যাগের গল্প। সেই গল্পে চোখ পড়তেই আবার স্তম্ভিত হয়েছেন সবাই। দুর্ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) রাতে শিক্ষিকি মাহেরীন চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। জানা যায়, মাহেরীন চৌধুরী প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের চাচাতো ভাই এম আর চৌধুরীর মেয়ে। গত কয়েক বছর আগে তিনি প্রথমে তার পিতা এবং এরপর মাকে হারান। তার ‍দুই ছেলে আছেন। তিনি মাইলস্টোনে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। তখন ভবনে ক্লাস চলছিল, যেখানে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মী সূত্রে জানা গেছে, বিমান বিধ্বস্তের পর চারদিক যখন আগুন ও ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়, তখন শিক্ষিকা মাহেরীন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া শুরু করেন। দ্রুততার সঙ্গে আতঙ্কিত শিশুদের বের করার চেষ্টা করেন। তার প্রচেষ্টায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অক্ষত বা সামান্য আহত অবস্থায় ভবন থেকে বের হতে পেরেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই দুঃসাহসিক কাজ করতে গিয়েই নিজে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তার।

এক অভিভাবক বলেন, ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে, ওই ম্যাডামের জন্য অন্তত ২০ শিক্ষার্থী বেঁচে গেছেন। প্রসঙ্গত, মর্মান্তিক এই বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় আজ রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে ৪ জন গ্রেপ্তার

২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে নিজের প্রাণ হারানো শিক্ষিকা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি

আপডেট সময় ০১:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

এবার রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চারদিকে যখন শোকের মাতম, তখন উঠে এসেছে এক শিক্ষিকার আত্মত্যাগের গল্প। সেই গল্পে চোখ পড়তেই আবার স্তম্ভিত হয়েছেন সবাই। দুর্ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) রাতে শিক্ষিকি মাহেরীন চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। জানা যায়, মাহেরীন চৌধুরী প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের চাচাতো ভাই এম আর চৌধুরীর মেয়ে। গত কয়েক বছর আগে তিনি প্রথমে তার পিতা এবং এরপর মাকে হারান। তার ‍দুই ছেলে আছেন। তিনি মাইলস্টোনে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। তখন ভবনে ক্লাস চলছিল, যেখানে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মী সূত্রে জানা গেছে, বিমান বিধ্বস্তের পর চারদিক যখন আগুন ও ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়, তখন শিক্ষিকা মাহেরীন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া শুরু করেন। দ্রুততার সঙ্গে আতঙ্কিত শিশুদের বের করার চেষ্টা করেন। তার প্রচেষ্টায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অক্ষত বা সামান্য আহত অবস্থায় ভবন থেকে বের হতে পেরেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই দুঃসাহসিক কাজ করতে গিয়েই নিজে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তার।

এক অভিভাবক বলেন, ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে, ওই ম্যাডামের জন্য অন্তত ২০ শিক্ষার্থী বেঁচে গেছেন। প্রসঙ্গত, মর্মান্তিক এই বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় আজ রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।