ঢাকা , রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান যা বললেন জাহেদ-উর রহমান বিএনপি জোটে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন! আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার ৩ শিশুকন্যাকে একটু দেখে রাইখেন: আমীর হামজা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়, এটি দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের বহিঃপ্রকাশ আগামী সংসদ নির্বাচন ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’: তারেক রহমান ‘মঞ্জুর মুন্সী আপিল নিয়ে যেতে পারবেন উচ্চ আদালতে, পক্ষে আদেশ পেলে থাকতে পারবেন ভোটের মাঠেও’ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করেছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি ফের ইরানিদের বিক্ষোভের আহ্বান রেজা পাহলভির, এবার মেলেনি সাড়া বিয়ে করলেই মিলবে ১৬ লাখ টাকা অনুদান, সন্তান হলে দ্বিগুণ! ‎পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলায় সরকারের ভেতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে: নাহিদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার শরিফ ওসমান হাদি, তার একটা এক্সিডেন্ট হতে পারে এবং হওয়ার পর কি কি ঘটনা ঘটানো হবে বাংলাদেশে, এটার একটা পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পর আমরা বলেছি যে, এটা সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমনটাই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। দেশে চলমান ‘মব ভায়োলেন্সের’ প্রতিবাদে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) যৌথভাবে এই সভা আয়োজন করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক, যারা এই ঘটনাটা সেই রাতে ঘটিয়েছে বা যারা প্রথম আলোসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা করেছে, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্লোগানগুলোকে ব্যবহার করেছে। শরিফ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করেছে। আমাদের স্লোগানগুলোকে ব্যবহার করে তারা সেখানে আক্রমণ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে যেই পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি, এটা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ এই পুরো পরিস্থিতির সঙ্গেই আমাদের জুলাই অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়ে এই পরিবেশ এবং যেই বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আমরা সেই দিকে আগাচ্ছি না।’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা বলেছি, এ ঘটনায় সরকারের ভিতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই। এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা একসঙ্গে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারও পক্ষে করা সম্ভব হতো না। কয়েক হাজার মানুষ গিয়ে এটা ঘটিয়েছে এরকমও না। ফলে পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল। ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে কী কী ঘটানো হবে, সেটার একটা চক্রান্ত, পরিকল্পনা আগে তৈরি হয়েছে। ঘটনাগুলো দেখে আমাদের কাছে এটাই মনে হয়েছে।’

এনসিপির নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের সবারই এটার কিছু দায় আছে। আমাদের অনেক বেশি দায় আছে। যারা আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের জন্য এটা আরও দুর্ভাগ্যজনক।’ নাহিদ আরও বলেন, ‘আজকে আমরা শব্দটা ব্যবহার করছি মব ভায়োলেন্স। এই শব্দটির সঙ্গে প্রথম দিকে একমত হতাম না বা আমরা এটার বিরোধিতা করতাম। কারণ আমরা যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, তাদের পক্ষ থেকেই পুরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে প্রথম থেকে বলা হয়েছে মব। ফলে আমরা বলেছি যে এটা মবোক্রেসি না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লব, বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে অনেক কিছু হয়। তখন পুলিশ ছিল না। মানুষের অনেক ক্ষোভ ছিল। ১৬ বছরের ক্ষোভ ছিল। কিন্তু এখন দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। এখন যেটা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত অপরাধ হচ্ছে এবং এটা পুরো দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন ভাবনাকে একদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা চলছে।’ এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কারা সে রাতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে এটা খুবই স্পষ্ট। কারা সেটার পক্ষে সমর্থন করেছে। কারা সেই রাতে সেখানে গিয়েছে, লেখালেখি করেছে। আমাদের সবাই মিলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং বিচার করতে। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদিকেও যারা গুলিবিদ্ধ করল, প্রকাশ্যে ঢাকা শহরে একজন এমপি পদপ্রার্থী এবং জুলাইয়ের মুখ সেই বিষয়টাকেও আমাদের সুরাহা করতে হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান

প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলায় সরকারের ভেতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে: নাহিদ

আপডেট সময় ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার শরিফ ওসমান হাদি, তার একটা এক্সিডেন্ট হতে পারে এবং হওয়ার পর কি কি ঘটনা ঘটানো হবে বাংলাদেশে, এটার একটা পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পর আমরা বলেছি যে, এটা সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমনটাই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। দেশে চলমান ‘মব ভায়োলেন্সের’ প্রতিবাদে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) যৌথভাবে এই সভা আয়োজন করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক, যারা এই ঘটনাটা সেই রাতে ঘটিয়েছে বা যারা প্রথম আলোসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা করেছে, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্লোগানগুলোকে ব্যবহার করেছে। শরিফ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করেছে। আমাদের স্লোগানগুলোকে ব্যবহার করে তারা সেখানে আক্রমণ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে যেই পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি, এটা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ এই পুরো পরিস্থিতির সঙ্গেই আমাদের জুলাই অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী সময়ে এই পরিবেশ এবং যেই বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আমরা সেই দিকে আগাচ্ছি না।’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা বলেছি, এ ঘটনায় সরকারের ভিতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই। এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা একসঙ্গে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারও পক্ষে করা সম্ভব হতো না। কয়েক হাজার মানুষ গিয়ে এটা ঘটিয়েছে এরকমও না। ফলে পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল। ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে কী কী ঘটানো হবে, সেটার একটা চক্রান্ত, পরিকল্পনা আগে তৈরি হয়েছে। ঘটনাগুলো দেখে আমাদের কাছে এটাই মনে হয়েছে।’

এনসিপির নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের সবারই এটার কিছু দায় আছে। আমাদের অনেক বেশি দায় আছে। যারা আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের জন্য এটা আরও দুর্ভাগ্যজনক।’ নাহিদ আরও বলেন, ‘আজকে আমরা শব্দটা ব্যবহার করছি মব ভায়োলেন্স। এই শব্দটির সঙ্গে প্রথম দিকে একমত হতাম না বা আমরা এটার বিরোধিতা করতাম। কারণ আমরা যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, তাদের পক্ষ থেকেই পুরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে প্রথম থেকে বলা হয়েছে মব। ফলে আমরা বলেছি যে এটা মবোক্রেসি না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লব, বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে অনেক কিছু হয়। তখন পুলিশ ছিল না। মানুষের অনেক ক্ষোভ ছিল। ১৬ বছরের ক্ষোভ ছিল। কিন্তু এখন দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। এখন যেটা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত অপরাধ হচ্ছে এবং এটা পুরো দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন ভাবনাকে একদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা চলছে।’ এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। কারা সে রাতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে এটা খুবই স্পষ্ট। কারা সেটার পক্ষে সমর্থন করেছে। কারা সেই রাতে সেখানে গিয়েছে, লেখালেখি করেছে। আমাদের সবাই মিলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং বিচার করতে। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদিকেও যারা গুলিবিদ্ধ করল, প্রকাশ্যে ঢাকা শহরে একজন এমপি পদপ্রার্থী এবং জুলাইয়ের মুখ সেই বিষয়টাকেও আমাদের সুরাহা করতে হবে।’