এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের (পিএসও) হঠাৎ করেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তারা প্রায় ২০ বছর ধরে মমতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার (১৭ জুন) তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এদিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের (পিএসও) অব্যাহতি দেয়ার পর নতুন করে পাঠানো নিরাপত্তাকর্মীদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা। ফলে বুধবার রাত থেকে কলকাতার কালীঘাটে তার বাসভবনে কোনও পুলিশি নিরাপত্তা নেই বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
জানা যায়, আগের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অব্যাহতির পর পিএসও হিসেবে নতুন করে ৪–৫ জন কর্মকর্তাকে পাঠানো হলেও তাদের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন। এর ফলে বুধবার রাতেই তার বাসভবনের নিরাপত্তা কিয়স্ক পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। রাতে সেখানে কোনও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেননি বলে জানা গেছে। এতে কার্যত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন। পরে বেরিয়ে এসে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সংসদ সদস্য ছিলেন, তখন থেকেই কয়েকজন নির্দিষ্ট পিএসও তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। ডেরেক বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন নতুন ও অচেনা কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কোনও পুলিশি নিরাপত্তা নেই। ডেরেক বলেন, ‘আমরা দুজন নিরাপত্তারক্ষী রেখেছি’। এরপর তাকে বাসভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বের হতে দেখা যায়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী এক বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যেন কোনও ধরনের গাফিলতি না হয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার কথাও বলেছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী তার নিরাপত্তায় ১০ জন পিএসও এবং জেড–প্লাস নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
জেড–প্লাস নিরাপত্তা ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই নিরাপত্তা দেয়া হয়। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাধারণত ৫৫ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করে। এর মধ্যে ১০ জনের বেশি ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) কমান্ডো এবং বাকিরা বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীর সদস্য। এনএসজি কমান্ডোরা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং আধুনিক অস্ত্র ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করেন। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-এর পর জেড–প্লাসকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 




















