Back
Live
BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য ও এক কিশোর নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:১৭, ২৩ মে ২০২৬
– ডি +
FacebookMessengerLinkedInTwitterWhatsAppViberShare
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য ও এক কিশোর নিহত
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার পুলিশ বিভাগ। আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (২৩ মে) গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, হামলায় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আল-শিফা হাসপাতালের সূত্র অনুযায়ী, কাছাকাছি একটি সড়কে থাকা অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
গাজা পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর গাজার আত-তওয়াম এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হানি মাহমুদ বলেন, “এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই নয়, তার আগেও ইসরাইলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে গাজার পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।”
গাজার প্রায় ১০ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে চলমান আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থামে। তবে এরপরও ইসরাইলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
গাজায় ইসরাইলের চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও নিহত হয়েছেন আরও ৮৮৩ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আটজন ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং আহত ২৯ জনকে আনা হয়েছে।
গাজার পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলার কারণে ত্রাণ বিতরণ আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমনিতেই অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মানবিক সংকট ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর কথা থাকলেও ইসরাইল এখনও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।
হানি মাহমুদ বলেন, “গাজাকে আরও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেওয়া এবং অবশিষ্ট বেসামরিক শৃঙ্খলা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এসব হামলার ফলে ত্রাণবাহী বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং ত্রাণ ছিনতাই ও লুটপাটের আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ইঁদুর, উকুন, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের বিস্তারের কারণে গাজার শিশুদের মধ্যে চর্মরোগ বাড়ছে।
সংস্থাটি বলেছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা হাজারো আক্রান্ত শিশুর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশকে চিকিৎসা দিতে পারছেন। সাধারণ সময়ে এসব রোগ সহজ চিকিৎসাতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।
ইউএনআরডব্লিউএ আরও জানায়, “গাজায় মৌলিক ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে বহু শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 



















