ঢাকা , রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সেচ্ছাসেবক দল নেতা ব্রিজ খুলে ফেলায় ৪ গ্রামের মানুষের যাতায়াত বন্ধ রংপুরে ৪ খুন, ঘাতক ছেলেকে নিজেই পুলিশ দেন বাবা আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায়, গ্রামের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা ৮ হাজার ২০০ ফুট উঁচুতে সাত বছরের ছেলেকে একা রেখে পবর্ত চূড়ার দিকে গেলেন বাবা স্থানীয় নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবেন না: রাশেদ খান সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম উপকূলের ঘরে ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর চাঁদাবাজির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, সন্দ্বীপের ঘাটদস্যুরা অধরা মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, রায় শুনে আদালত প্রাঙ্গণে জ্ঞান হারালেন আসামি ঘুষ-দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও মাদক হারাম: রাশেদ খান

মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, রায় শুনে আদালত প্রাঙ্গণে জ্ঞান হারালেন আসামি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

 

মেহেরপুরে এক ধর্ষণ মামলায় কলিম উদ্দিন ওরফে কালু নামের এক ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে বের হয়ে কালু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার)।

 

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারী রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় কালু তার ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে কালু পালিয়ে যান এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযুক্ত কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে  যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আজকের এই আদেশ প্রমাণ করে আসামি যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। আজকের এই সাজার মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

 

 

আদালতে আসামী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে এ্যাড: পল্লব ভট্টাচার্য ও এ্যাড : ইব্রাহীম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেচ্ছাসেবক দল নেতা ব্রিজ খুলে ফেলায় ৪ গ্রামের মানুষের যাতায়াত বন্ধ

মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, রায় শুনে আদালত প্রাঙ্গণে জ্ঞান হারালেন আসামি

আপডেট সময় ০৯:১৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

মেহেরপুরে এক ধর্ষণ মামলায় কলিম উদ্দিন ওরফে কালু নামের এক ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে বের হয়ে কালু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

 

দণ্ডপ্রাপ্ত কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার)।

 

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারী রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় কালু তার ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে কালু পালিয়ে যান এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযুক্ত কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে  যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

 

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আজকের এই আদেশ প্রমাণ করে আসামি যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। আজকের এই সাজার মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

 

 

আদালতে আসামী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে এ্যাড: পল্লব ভট্টাচার্য ও এ্যাড : ইব্রাহীম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।