রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই হতে হবে। এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেন তিনি।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় আজ বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। রাখাইনের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংকটের সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এবারের বাংলাদেশি উদ্যোগে তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















