ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

আওয়ামী লীগের চাইতে , প্রথম আলোর রাজনীতি কম কিছু না

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

প্রথম আলোর সম্পাদকীয় ও সংবাদভাষা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন লেখক ও বিশ্লেষক মির্জা গালিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চেয়ে বেশি মতাদর্শিক রাজনীতি করে এবং এই রাজনীতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বৈধতার জায়গা করে দেয়।

গালিবের মতে, জামায়াত বা হেফাজত সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রথম আলো সরাসরি দায় আরোপকারী ভাষা ব্যবহার করে—যেমন ‘জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব’, ‘হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ’, ‘বর্বরতা’ ইত্যাদি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ক্ষেত্রে তারা প্রায়শই ভাববাচ্য বা দায় এড়ানো শব্দচয়ন করে—‘হামলা হয়েছে’, ‘বাসে আগুন’, ‘দুর্বৃত্তদের হামলা’—যা সংবাদভাষার দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যারা নিজেদের ‘সেকুলার’ ও ‘লিবারেল’ বলে দাবি করেন, তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে ‘ফার রাইট’ ধরনের রাজনীতি করেন, যার বৈশিষ্ট্য হলো ‘সিলেক্টিভ মোরালিটি’। প্রথম আলোর অফিসে হামলা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে আলোচিত হয়, কিন্তু অন্য সংবাদমাধ্যম—নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম বা আমার দেশ—এর ওপর হামলার ঘটনায় একই মাত্রার প্রতিবাদ দেখা যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে মির্জা গালিব স্পষ্ট করে বলেন, প্রথম আলোর রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করা হলেও তাদের অফিস ভাঙচুর বা সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, এমন প্রতিক্রিয়াও শেষ পর্যন্ত ‘us versus them’ রাজনীতিকেই শক্তিশালী করে। গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে ‘বাংলাদেশপন্থী’ করার আহ্বান জানান—যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সবার জন্য ন্যায্যতা থাকবে। ‘সেকুলার’ ও ‘ধার্মিক’ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মতাদর্শিক পার্থক্য স্বীকার করেই পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কমন গ্রাউন্ড তৈরির তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের সিলেক্টিভ মোরালিটি পরিহার করে যে কোনো সংবাদমাধ্যম বা মতপ্রকাশের ওপর হামলার বিরুদ্ধে একক মানদণ্ডে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিভোর্সি নারীদের বিয়ে করা নিয়ে কী বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ?

আওয়ামী লীগের চাইতে , প্রথম আলোর রাজনীতি কম কিছু না

আপডেট সময় ০১:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রথম আলোর সম্পাদকীয় ও সংবাদভাষা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন লেখক ও বিশ্লেষক মির্জা গালিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চেয়ে বেশি মতাদর্শিক রাজনীতি করে এবং এই রাজনীতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বৈধতার জায়গা করে দেয়।

গালিবের মতে, জামায়াত বা হেফাজত সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রথম আলো সরাসরি দায় আরোপকারী ভাষা ব্যবহার করে—যেমন ‘জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব’, ‘হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ’, ‘বর্বরতা’ ইত্যাদি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ক্ষেত্রে তারা প্রায়শই ভাববাচ্য বা দায় এড়ানো শব্দচয়ন করে—‘হামলা হয়েছে’, ‘বাসে আগুন’, ‘দুর্বৃত্তদের হামলা’—যা সংবাদভাষার দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যারা নিজেদের ‘সেকুলার’ ও ‘লিবারেল’ বলে দাবি করেন, তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে ‘ফার রাইট’ ধরনের রাজনীতি করেন, যার বৈশিষ্ট্য হলো ‘সিলেক্টিভ মোরালিটি’। প্রথম আলোর অফিসে হামলা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে আলোচিত হয়, কিন্তু অন্য সংবাদমাধ্যম—নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম বা আমার দেশ—এর ওপর হামলার ঘটনায় একই মাত্রার প্রতিবাদ দেখা যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে মির্জা গালিব স্পষ্ট করে বলেন, প্রথম আলোর রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করা হলেও তাদের অফিস ভাঙচুর বা সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, এমন প্রতিক্রিয়াও শেষ পর্যন্ত ‘us versus them’ রাজনীতিকেই শক্তিশালী করে। গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে ‘বাংলাদেশপন্থী’ করার আহ্বান জানান—যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সবার জন্য ন্যায্যতা থাকবে। ‘সেকুলার’ ও ‘ধার্মিক’ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মতাদর্শিক পার্থক্য স্বীকার করেই পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কমন গ্রাউন্ড তৈরির তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের সিলেক্টিভ মোরালিটি পরিহার করে যে কোনো সংবাদমাধ্যম বা মতপ্রকাশের ওপর হামলার বিরুদ্ধে একক মানদণ্ডে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।