ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগামীকাল সচিবালয়ে অফিস করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় শপথের ডাক পেলেন এহসানুল হক মিলন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঘোষণা বিএনপির তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপির সংসদীয় দল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জুবাইদার সাথে শাড়ি পরে জাইমা রহমান বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে কোনো শপথই নেবেন না ১১ দলীয় জোট অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন আমীর খসরু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা আব্বাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে না বিএনপির এমপিরা: সালাহউদ্দিন

আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার ওপরেও আমরা হাত বসাব না: জামায়াত আমির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার উপরেও আমরা হাত বসাব না। মহান আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, সর্বস্তরের দুর্নীতিকে আমরা মাটির নিচে গেড়ে দেব। চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ওপর সহ্য করা হবে না।

আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সতর্ক করে বলেন, ‘ভয় পেও না, তওবা করে ফিরে এসো। আমরা তোমাদের হাতেও সম্মানের কাজ ও রুজি তুলে দেব। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস হবে না।’

বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের ‘রাজধানী’ উল্লেখ করে জামায়াতের আমির ঘোষণা দেন, ‘আল্লাহ চাইলে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ করা হবে।’ বগুড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, ‘বগুড়ার গুরুত্ব সব সময়ই অপরিসীম। ক্ষমতায় এলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালু করা হবে। এছাড়া বগুড়ার শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা হবে।’

বিচার বিভাগ নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না। আদালত দেখবে না কে প্রেসিডেন্ট, কে প্রধানমন্ত্রী, আর কে এমপি। অপরাধ করলে প্রেসিডেন্ট হলেও তিনি অপরাধী। আদালত শুধু দেখবে ব্যক্তিটি অপরাধী কি না, সে ক্ষতিগ্রস্ত বা মজলুম কি না।’ গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে আমাদের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবেন। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। সাদার গায়ে কালোর প্রলেপ দেবেন না, আবার কালোকেও গোপন করবেন না।”

জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল বয়স্ক নাগরিকের চিকিৎসার ভার রাষ্ট্র বহন করবে। মায়েরা যাতে নিরাপদে ও সম্মানের সাথে ঘরে-বাইরে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’ যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের বেকার তকমা দিয়ে রাখা হবে না। যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য, রাষ্ট্র সেখানেই তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কোনো ভুয়া সার্টিফিকেটের বোঝা বইতে হবে না।’

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে যে লাল কার্ড দেখিয়েছে, সেটাই স্থায়ী লাল কার্ড। আমরা সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক, তা বরদাশত করব না। বাংলাদেশের মানুষ ভাঙবে কিন্তু মচকাবে না।’ জনসভায় তিনি বিগত সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণ আর কোনো ধোঁকা দেখতে চায় না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীকাল সচিবালয়ে অফিস করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার ওপরেও আমরা হাত বসাব না: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৪:০২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার উপরেও আমরা হাত বসাব না। মহান আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, সর্বস্তরের দুর্নীতিকে আমরা মাটির নিচে গেড়ে দেব। চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ওপর সহ্য করা হবে না।

আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সতর্ক করে বলেন, ‘ভয় পেও না, তওবা করে ফিরে এসো। আমরা তোমাদের হাতেও সম্মানের কাজ ও রুজি তুলে দেব। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস হবে না।’

বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের ‘রাজধানী’ উল্লেখ করে জামায়াতের আমির ঘোষণা দেন, ‘আল্লাহ চাইলে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ করা হবে।’ বগুড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, ‘বগুড়ার গুরুত্ব সব সময়ই অপরিসীম। ক্ষমতায় এলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালু করা হবে। এছাড়া বগুড়ার শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা হবে।’

বিচার বিভাগ নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না। আদালত দেখবে না কে প্রেসিডেন্ট, কে প্রধানমন্ত্রী, আর কে এমপি। অপরাধ করলে প্রেসিডেন্ট হলেও তিনি অপরাধী। আদালত শুধু দেখবে ব্যক্তিটি অপরাধী কি না, সে ক্ষতিগ্রস্ত বা মজলুম কি না।’ গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে আমাদের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবেন। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন। সাদার গায়ে কালোর প্রলেপ দেবেন না, আবার কালোকেও গোপন করবেন না।”

জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল বয়স্ক নাগরিকের চিকিৎসার ভার রাষ্ট্র বহন করবে। মায়েরা যাতে নিরাপদে ও সম্মানের সাথে ঘরে-বাইরে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’ যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের বেকার তকমা দিয়ে রাখা হবে না। যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য, রাষ্ট্র সেখানেই তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কোনো ভুয়া সার্টিফিকেটের বোঝা বইতে হবে না।’

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে যে লাল কার্ড দেখিয়েছে, সেটাই স্থায়ী লাল কার্ড। আমরা সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক, তা বরদাশত করব না। বাংলাদেশের মানুষ ভাঙবে কিন্তু মচকাবে না।’ জনসভায় তিনি বিগত সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণ আর কোনো ধোঁকা দেখতে চায় না।’