ফুটবল কেন এত অনিশ্চয়তার খেলা, সেটি আবারও বুঝিয়ে দিল কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি। মাঠে লামিনে ইয়ামাল-নিকো উইলিয়ামসদের হতাশার সঙ্গে মাঠের বাইরে আরও এক নাটকীয় গল্প তৈরি হয়েছে—স্পেন জিতবে ধরে প্রায় ১২ কোটি টাকার বেশি হারিয়েছেন এক ব্যক্তি।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলিমার্কেটে এক রহস্যময় ব্যবহারকারী স্পেনের জয়ের পক্ষে প্রায় ১০ লাখ ডলার রেখেছিলেন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এত বড় অঙ্কের ঝুঁকির সম্ভাব্য লাভ ছিল মাত্র ৮৫ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। কারণ স্পেনের জয়কে প্রায় নিশ্চিত ধরে বাজারে সম্ভাবনা ছিল খুব বেশি, ফলে লাভের হার ছিল কম।
কাগজে-কলমে সিদ্ধান্তটা খুব নিরাপদই মনে হয়েছিল। একদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে কেপ ভার্দে—বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র। জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি। এমন ম্যাচে স্পেন জিতবে, এটাই ছিল প্রায় সবার ধারণা।
আটলান্টায় কেপ ভার্দে শুধু রক্ষণই করেনি, নিজেদের স্নায়ুও ধরে রেখেছে। স্পেনের আক্রমণের পর আক্রমণ, বল দখল, শট—সবকিছুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। আর গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে ৪০ বছর বয়সি ভোজিনিয়া যেন নিজের জীবনের ম্যাচ খেললেন। সাতটি সেভ করে তিনি স্পেনকে আটকে দেন, আর কেপ ভার্দে পায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ড্র।
এই ড্র কেপ ভার্দের জন্য ছিল উৎসব, স্পেনের জন্য ধাক্কা, আর সেই পলিমার্কেট ব্যবহারকারীর জন্য ছিল বিরাট আর্থিক বিপর্যয়। ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঝুঁকিতে রেখেছিলেন তিনি। সম্ভাব্য লাভ ছিল প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। কিন্তু ম্যাচ ০-০ শেষ হতেই পুরো হিসাব উল্টে যায়।
আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ১১ লাখ ডলার পর্যন্ত গিয়েছিল। সেই হিসাবে ক্ষতি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ একটি গোল না হওয়ায়, একটি ফেভারিট দল না জেতায়, কয়েক মিনিটের মধ্যে উড়ে গেছে কোটি কোটি টাকার হিসাব।
এই গল্প শুধু একটি বাজির নয়। এটি ফুটবলের সবচেয়ে পুরোনো সত্যের গল্প—এই খেলায় কোনো ফল নিশ্চিত নয়। স্পেনের মতো দলও আটকে যেতে পারে, কেপ ভার্দের মতো অভিষিক্ত দলও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস লিখতে পারে, আর নিশ্চিত লাভ মনে হওয়া হিসাবও মুহূর্তে ক্ষতিতে পরিণত হতে পারে।
ব্যাপারটা আরও মজার হয় বিপরীত দিকের গল্পে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরেক পলিমার্কেট ব্যবহারকারী স্পেন জিতবে না—এই সম্ভাবনায় বড় অঙ্কের অর্থ রেখেছিলেন। স্পেনের ড্রয়ের পর তিনি সাত অঙ্কের পেআউট পেয়েছেন। অর্থাৎ একই ম্যাচে কারও ১২ কোটি টাকার স্বপ্ন ভেঙেছে, কারও আবার বদলে গেছে রাতারাতি ভাগ্য।
তবে এখানে বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—এমন ম্যাচে ১০ লাখ ডলার ঝুঁকি নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল? কারণ লাভের সম্ভাবনা ছিল তুলনামূলক কম, ঝুঁকি ছিল বিশাল। স্পেন জিতলে লাভ হতো প্রায় ১ কোটি টাকার একটু বেশি। কিন্তু স্পেন না জিতলেই ক্ষতি পুরো অঙ্ক। আর বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে, যেখানে চাপ, স্নায়ু, আবহ, গোলরক্ষকের এক দিনের বীরত্ব—সবকিছু ফল বদলে দিতে পারে, সেখানে ‘নিশ্চিত’ বলে কিছু নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















