ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তামিলনাড়ুতে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ মাকে ধর্ষণ-হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় ১ বছরের শিশু সন্তানকে পরীক্ষার পুরো সময় শিক্ষার্থীর সন্তানকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক গ্রাহকের মৃত্যুতে কিস্তি মওকুফ, পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিল কলাপাড়া ওয়ালটন প্লাজা যুদ্ধে উৎপাদনে ক্ষতির মধ্যেই ২০ হাজার কোটি ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান পেল ইরান কুয়াকাটায় ট্রলিং ট্রলার বন্ধ না হলে দেশের ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলা, ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি দেশের অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেসবিহীন, হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে: সড়কমন্ত্রী জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

পরীক্ষার পুরো সময় শিক্ষার্থীর সন্তানকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এবার নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিতক্লাস টেস্টচলাকালীন এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে সামলে রেখে তাকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দেয়।

ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক শিক্ষার্থী তার কোলের সন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। শিক্ষার্থীটি জানান, পরীক্ষার সময়টুকুতে তার বাচ্চাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং তার স্বামীও অফিসের কাজ থেকে পাননি ছুটি। তাই তিনি পরীক্ষাটি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরে দিতে চান, যাতে বন্ধুদের পরীক্ষা শেষ হলে তাদের কাছে সন্তানকে রেখে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেন।

শিক্ষার্থীর এমন অসহায়ত্ব দেখে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে সফল হতে গেলে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক কত শত বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে শিক্ষার্থীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু শিক্ষকের মনে হয়, এতে ওই ছাত্রীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে। কেবল সন্তানের কারণে তিনি তার সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন বা আলাদা হয়ে যাবেনতিনিএমনটা হতে দিতে চাননি

তাই তিনি শিক্ষার্থীকে জানান, বাচ্চাটি যদি তার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তবে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে শিক্ষার্থী কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও, শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। পুরো পরীক্ষা চলাকালীন শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল এবং ওই শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানালে তিনি এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তামিলনাড়ুতে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

পরীক্ষার পুরো সময় শিক্ষার্থীর সন্তানকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

এবার নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিতক্লাস টেস্টচলাকালীন এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে সামলে রেখে তাকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দেয়।

ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক শিক্ষার্থী তার কোলের সন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। শিক্ষার্থীটি জানান, পরীক্ষার সময়টুকুতে তার বাচ্চাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং তার স্বামীও অফিসের কাজ থেকে পাননি ছুটি। তাই তিনি পরীক্ষাটি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরে দিতে চান, যাতে বন্ধুদের পরীক্ষা শেষ হলে তাদের কাছে সন্তানকে রেখে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেন।

শিক্ষার্থীর এমন অসহায়ত্ব দেখে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে সফল হতে গেলে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক কত শত বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে শিক্ষার্থীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু শিক্ষকের মনে হয়, এতে ওই ছাত্রীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে। কেবল সন্তানের কারণে তিনি তার সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন বা আলাদা হয়ে যাবেনতিনিএমনটা হতে দিতে চাননি

তাই তিনি শিক্ষার্থীকে জানান, বাচ্চাটি যদি তার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তবে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে শিক্ষার্থী কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও, শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। পুরো পরীক্ষা চলাকালীন শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল এবং ওই শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানালে তিনি এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।