ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২০২৭ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ ৬ অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি বাবার মরদেহ বারান্দায়, সাড়ে তিন হাত জায়গা নিয়ে ২ ভাইয়ের মারামারি হাঁস-মুরগির দোকানে ম্যারেজ মিডিয়ার অফিস ওমরাহর জন্য স্ত্রীর জমানো টাকায় ৫৬ বছরের রাস্তা সংস্কার সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে ৬৭ লাখ টাকা, ঘোষণা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার আগে বলে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, পরে বলে ‘গিভ মি ইওর প্ল্যান’: হাসনাত আব্দুল্লাহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এমপি শওকতুল ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা বিএনপি ক্ষমতায় এলেই সংকট বাড়ে: এনসিপি নেতা সারোয়ার দেশের প্রতিটি সংকটে জিয়া পরিবার জনগণের পাশে থেকেছে: আমানউল্লাহ আমান

বাবার মরদেহ বারান্দায়, সাড়ে তিন হাত জায়গা নিয়ে ২ ভাইয়ের মারামারি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে ঘরের বারান্দায় বাবার মরদেহ রেখে কবরের জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

 

আজ সোমবার সকালে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান ওই গ্রামের আব্দুল খালেক মান (৭২)। তার মৃত্যুর পর কবরস্থানের জায়গা নিয়ে দুই ছেলের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়।

 

স্বজনরা যখন মরদেহ ঘিরে আহাজারি করছিলেন, তখন উঠোনে কবরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত পৈতৃক কবরস্থানে দাফন করা হয় আব্দুল খালেকের মরদেহ।

 

তথ্যনুযায়, চার-পাঁচ বছর আগে বড় ছেলে মাহাবুর রহমান মান বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তিনি বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি করে আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় ছোট ভাই আছাবুর রহমান মান বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পুরোনো বসতবাড়ি ও কবরস্থান কিনে নেন। পরে সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থ বাবা বড় ছেলে মাহাবুরের আশ্রয়ে ছিলেন। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হলে পুরোনো পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে যান মাহাবুর। এ সময় ছোট ভাই আছাবুর কবর খোঁড়ায় বাধা দেন। ওই জমি কেনার সূত্রে তিনি কবরস্থানের জায়গার মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

 

এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরকে মারধর করেন। এতে বড় ভাই মাহাবুর রহমান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং ছোট ভাই আছাবুর রহমান ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

এদিকে সংঘর্ষের কারণে বাবার দাফনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) যোগেশ চন্দ মন্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পৈতৃক কবরস্থানে আব্দুল খালেকের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

এ বিষয়ে এসআই যোগেশ চন্দ মন্ডল জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আব্দুল খালেকের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। আহতরা চিকিৎসা শেষে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ ৬ অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি

বাবার মরদেহ বারান্দায়, সাড়ে তিন হাত জায়গা নিয়ে ২ ভাইয়ের মারামারি

আপডেট সময় ১১:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে ঘরের বারান্দায় বাবার মরদেহ রেখে কবরের জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

 

আজ সোমবার সকালে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান ওই গ্রামের আব্দুল খালেক মান (৭২)। তার মৃত্যুর পর কবরস্থানের জায়গা নিয়ে দুই ছেলের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়।

 

স্বজনরা যখন মরদেহ ঘিরে আহাজারি করছিলেন, তখন উঠোনে কবরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত পৈতৃক কবরস্থানে দাফন করা হয় আব্দুল খালেকের মরদেহ।

 

তথ্যনুযায়, চার-পাঁচ বছর আগে বড় ছেলে মাহাবুর রহমান মান বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তিনি বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি করে আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় ছোট ভাই আছাবুর রহমান মান বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পুরোনো বসতবাড়ি ও কবরস্থান কিনে নেন। পরে সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থ বাবা বড় ছেলে মাহাবুরের আশ্রয়ে ছিলেন। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হলে পুরোনো পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে যান মাহাবুর। এ সময় ছোট ভাই আছাবুর কবর খোঁড়ায় বাধা দেন। ওই জমি কেনার সূত্রে তিনি কবরস্থানের জায়গার মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

 

এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরকে মারধর করেন। এতে বড় ভাই মাহাবুর রহমান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং ছোট ভাই আছাবুর রহমান ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

এদিকে সংঘর্ষের কারণে বাবার দাফনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) যোগেশ চন্দ মন্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পৈতৃক কবরস্থানে আব্দুল খালেকের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

এ বিষয়ে এসআই যোগেশ চন্দ মন্ডল জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আব্দুল খালেকের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। আহতরা চিকিৎসা শেষে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।