ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাঁস-মুরগির দোকানে ম্যারেজ মিডিয়ার অফিস ওমরাহর জন্য স্ত্রীর জমানো টাকায় ৫৬ বছরের রাস্তা সংস্কার সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে ৬৭ লাখ টাকা, ঘোষণা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার আগে বলে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, পরে বলে ‘গিভ মি ইওর প্ল্যান’: হাসনাত আব্দুল্লাহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এমপি শওকতুল ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা বিএনপি ক্ষমতায় এলেই সংকট বাড়ে: এনসিপি নেতা সারোয়ার দেশের প্রতিটি সংকটে জিয়া পরিবার জনগণের পাশে থেকেছে: আমানউল্লাহ আমান মহাসড়ক অবরোধ করে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল, আটক ৩ পলাতক আসামির গ্যারেজে মিললো ২২৪ কেজি গাঁজা ও বিদেশি পিস্তল

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

 

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

 

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

 

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।

 

রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

 

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

 

পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

সিআইডির করা সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনেই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঁস-মুরগির দোকানে ম্যারেজ মিডিয়ার অফিস

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

আপডেট সময় ১০:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

 

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

 

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

 

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।

 

রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

 

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

 

পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

সিআইডির করা সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনেই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।