ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাকাসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ আগামীকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, মাঠে থাকবে ডিএমপির ১৮ হাজার পুলিশ ‘অভিমানী’ মাজারের সেই কুমির অনশনে, ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে ইরানের ফুটবলাররা দেশ ও জাতির মর্যাদা রক্ষার লড়াই করছে: আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে চিঠি রেখে গেল ইরান রাখালবালক থেকে ইরানের বিশ্বকাপের নায়ক আলিরেজা ছাত্রলীগ নেতা সাকিব আল হাসান গ্রেপ্তার ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি পতাকার কিপ্পা পরে আবারও আলোচনায় ব্রিটিশ লেখক সিনক্লেয়ার সতীর্থরাই বলছেন, আমরা রোনালদোকে বল পাস দিতে বাধ্য নই সর্বোচ্চ টাকা পাচারের জন্য ড. ইউনূস ডাবল নোবেলের দাবিদার: রনি

৪০০ বছর ধরে জমা চাপ, ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে দেশের দুই জেলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৯৭৬ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশের নিচে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের স্থায়ী নড়াচড়ার কারণে দেশের ভৌগোলিক কাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ নড়াচড়ার ফলে ডাউকি, মধুপুর ও সিলেট লাইনমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎস হলো মধুপুর ফল্ট।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ফল্টে প্রায় ৪০০ বছর ধরে চাপ জমে আছে। এই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৮ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজধানী ঢাকা এই ফল্ট থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাত্র ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে।

গত ২০০৭ সালে মধুপুর ফল্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি সিসমোগ্রাফ স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই যন্ত্রের কোনো হদিস নেই। ফলে মধুপুর গড় ও আশপাশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদী কেন্দ্রিক ভূমিকম্পের পর মধুপুর এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকার টাঙ্গাইলকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, যা তাদের অপ্রস্তুত রাখে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পিত নির্মাণ ও সঠিক তদারকি থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।” এমবিএসটিইউ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে মধুপুর অঞ্চলে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নতুন যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলছে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

৪০০ বছর ধরে জমা চাপ, ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে দেশের দুই জেলা

আপডেট সময় ০১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

এবার বাংলাদেশের নিচে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের স্থায়ী নড়াচড়ার কারণে দেশের ভৌগোলিক কাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ নড়াচড়ার ফলে ডাউকি, মধুপুর ও সিলেট লাইনমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎস হলো মধুপুর ফল্ট।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ফল্টে প্রায় ৪০০ বছর ধরে চাপ জমে আছে। এই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৮ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজধানী ঢাকা এই ফল্ট থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাত্র ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে।

গত ২০০৭ সালে মধুপুর ফল্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি সিসমোগ্রাফ স্থাপন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই যন্ত্রের কোনো হদিস নেই। ফলে মধুপুর গড় ও আশপাশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদী কেন্দ্রিক ভূমিকম্পের পর মধুপুর এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকার টাঙ্গাইলকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, যা তাদের অপ্রস্তুত রাখে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পিত নির্মাণ ও সঠিক তদারকি থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।” এমবিএসটিইউ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে মধুপুর অঞ্চলে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নতুন যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলছে।”