ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গরীব মানুষের জন্য আদ্-দ্বীন একটা ভরসার জায়গা: ডা. মাহমুদা মিতু ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করলেন ট্রাম্প বিশ্বকাপে বাঁশি বাজাতে না পারলেও সুপার কাপে বড় দায়িত্ব পেলেন সোমালি রেফারি ইতিহাসে প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে খেলবে রেকর্ড ১৩টি মুসলিম দেশ যে বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছিল ফুটবলের ইতিহাস কিছুক্ষণ পর শুরু হবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাতভর অভিযানে কটিয়াদীতে কৃষক লীগ-ছাত্রলীগসহ ৪ নেতা আটক আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল ইস্যুতে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস বিয়ের উপহার হিসেবে বর পেলেন ব্রাজিলের জার্সি, কনে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের রাতেই হাসপাতালে মিরাজ

মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন রাহুল গান্ধী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও তীব্র চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করল কংগ্রেস। একদিকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, অন্যদিকে আগামী এক বছরের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণীদুই বিষয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রোববার (২৪ মে) দুই ভিন্ন মঞ্চে রাহুল গান্ধীর করা এমন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাহুল গান্ধী বলেন, যতদিন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করছেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা না নেওয়া হচ্ছে, ততদিন কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হায়দরাবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী স্লোগানও ওঠে।

রাহুল অভিযোগ করেন, লাখ লাখ তরুণ যখন রাস্তায় নেমে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব রয়েছেন। তার ভাষায়, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, অথচ সরকার সমস্যার সমাধানের বদলে দায় এড়ানোর পথ খুঁজছে। শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা। সংখ্যালঘু বিভাগের এক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকারের পতন ঘটবে। অর্থনৈতিক অসন্তোষ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুলের এসব মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে যুবসমাজ, চাকরিপ্রার্থী এবং মধ্যবিত্তদের অসন্তোষকে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু বর্তমানে ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থী সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। সেই আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা চলছে।

তবে বিজেপি এখনো পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। যদিও দলটির একাংশের নেতারা দাবি করছেন, বিরোধীদের কাছে জনসমর্থনের ঘাটতি থাকায় তারা ইস্যুভিত্তিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।  পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ ভারতের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রাহুল গান্ধী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গরীব মানুষের জন্য আদ্-দ্বীন একটা ভরসার জায়গা: ডা. মাহমুদা মিতু

মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন রাহুল গান্ধী

আপডেট সময় ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

এবার ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও তীব্র চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করল কংগ্রেস। একদিকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, অন্যদিকে আগামী এক বছরের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণীদুই বিষয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রোববার (২৪ মে) দুই ভিন্ন মঞ্চে রাহুল গান্ধীর করা এমন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাহুল গান্ধী বলেন, যতদিন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করছেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা না নেওয়া হচ্ছে, ততদিন কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হায়দরাবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী স্লোগানও ওঠে।

রাহুল অভিযোগ করেন, লাখ লাখ তরুণ যখন রাস্তায় নেমে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব রয়েছেন। তার ভাষায়, ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, অথচ সরকার সমস্যার সমাধানের বদলে দায় এড়ানোর পথ খুঁজছে। শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা। সংখ্যালঘু বিভাগের এক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকারের পতন ঘটবে। অর্থনৈতিক অসন্তোষ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুলের এসব মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে যুবসমাজ, চাকরিপ্রার্থী এবং মধ্যবিত্তদের অসন্তোষকে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু বর্তমানে ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থী সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। সেই আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা চলছে।

তবে বিজেপি এখনো পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। যদিও দলটির একাংশের নেতারা দাবি করছেন, বিরোধীদের কাছে জনসমর্থনের ঘাটতি থাকায় তারা ইস্যুভিত্তিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।  পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ ভারতের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রাহুল গান্ধী।