ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কোটালীপাড়ার সেতুতে ফুটবল দেশের পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড় শাহজালালে বিমানের ইঞ্জিন বিকল, জরুরি দরজা ভে’ঙে যাত্রী উ’দ্ধা’র ‘শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিংয়ের সাথে বৈঠক’ আ.লীগের মিছিলে গেলেই অর্ধেক মাসের বেতন, ১৫ দিনেই জামিনের নিশ্চয়তা! বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় চীন-বাংলাদেশের ঐকমত্য ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিলো ভারত বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ, নজর রাখছে ভারত

খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

এবার সরকারের খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা। চলতি বছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ঢাকার ধামরাইয়ের স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন ত্রাণমন্ত্রী। পরে ধামরাইয়ে খননকাজ চলমান একটি খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন।

খাল খননের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিষয়টি হলো, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ ছিল যে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আমরা পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এটি চারপাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ৭ হাজার কিলোমিটার। এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন, এ বছর আগাম বৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে অনেক জায়গায় হয়ত সুষ্ঠুভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন বাংলাদেশ খাদ্যঘাটতির দেশ ছিল। তিনি এই খাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করেছিলেন এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় অবজ্ঞা, অবহেলা ও অযত্নে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, বেদখল হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা দেখছি, খাল কেটে মানুষের মুখে হাসি ফিরছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে চাই। আপনারা জানেন, পার্শ্ববর্তী দেশের পানিবৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উপরিভাগের পানিকে ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এই খালের মাধ্যমে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন হবে, আর শুকনো মৌসুমে কৃষকদের সেচের জন্য পানি সরবরাহ করা যাবে। পাশাপাশি আমরা খালের পাড়ে গাছ লাগাব। আমাদের ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছ লাগানো শুরু হয়েছে। আমরা চাই, সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষদের এ কাজে সম্পৃক্ত করতে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান হয় এবং আয়বর্ধক কর্মসূচি হিসেবে এটি কাজে আসে। আমরা চেষ্টা করছি পুরো কার্যক্রম দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা করতে। কোথাও অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।

খাল খননে ২৫ শতাংশ শ্রমিক সম্পৃক্ত করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ কাজ ভেকু দিয়ে করা হচ্ছেএ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, না, মূল খননের কাজ ভেকু দিয়ে করা হবে। কারণ এটি ড্রেজিংয়ের কাজ। তবে স্লোপিং, বৃক্ষরোপণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ মানুষের মাধ্যমে করা হবে। আপনারা জানেন, বর্তমানে এ কাজে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খুবই কম। আমরা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আগামী অর্থবছরে এই মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।

এ সময় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, আমরা জানি, মানুষের বিএনপির ওপর একটি বিশাল আস্থা ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সর্বোপরি আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি জনগণের এই আস্থা তৈরি হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আজ ধামরাইয়ে এসেছেন। আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি অনুগ্রহ করে মানিকগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করে এ বেলায় আমার এলাকায় এসে পদচারণা করেছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ধামরাইবাসীর পক্ষ থেকে আমি আমাদের এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটালীপাড়ার সেতুতে ফুটবল দেশের পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড়

খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

এবার সরকারের খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা। চলতি বছরে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ঢাকার ধামরাইয়ের স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন ত্রাণমন্ত্রী। পরে ধামরাইয়ে খননকাজ চলমান একটি খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন।

খাল খননের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিষয়টি হলো, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ ছিল যে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আমরা পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এটি চারপাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ৭ হাজার কিলোমিটার। এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন, এ বছর আগাম বৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে অনেক জায়গায় হয়ত সুষ্ঠুভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন বাংলাদেশ খাদ্যঘাটতির দেশ ছিল। তিনি এই খাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করেছিলেন এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় অবজ্ঞা, অবহেলা ও অযত্নে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, বেদখল হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা দেখছি, খাল কেটে মানুষের মুখে হাসি ফিরছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে চাই। আপনারা জানেন, পার্শ্ববর্তী দেশের পানিবৈষম্যের কারণে আমাদের দেশের অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উপরিভাগের পানিকে ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এই খালের মাধ্যমে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন হবে, আর শুকনো মৌসুমে কৃষকদের সেচের জন্য পানি সরবরাহ করা যাবে। পাশাপাশি আমরা খালের পাড়ে গাছ লাগাব। আমাদের ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে। ইতোমধ্যে গাছ লাগানো শুরু হয়েছে। আমরা চাই, সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষদের এ কাজে সম্পৃক্ত করতে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান হয় এবং আয়বর্ধক কর্মসূচি হিসেবে এটি কাজে আসে। আমরা চেষ্টা করছি পুরো কার্যক্রম দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা করতে। কোথাও অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তদন্ত টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।

খাল খননে ২৫ শতাংশ শ্রমিক সম্পৃক্ত করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ কাজ ভেকু দিয়ে করা হচ্ছেএ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, না, মূল খননের কাজ ভেকু দিয়ে করা হবে। কারণ এটি ড্রেজিংয়ের কাজ। তবে স্লোপিং, বৃক্ষরোপণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ মানুষের মাধ্যমে করা হবে। আপনারা জানেন, বর্তমানে এ কাজে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খুবই কম। আমরা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আগামী অর্থবছরে এই মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।

এ সময় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, আমরা জানি, মানুষের বিএনপির ওপর একটি বিশাল আস্থা ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সর্বোপরি আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি জনগণের এই আস্থা তৈরি হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আজ ধামরাইয়ে এসেছেন। আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি অনুগ্রহ করে মানিকগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করে এ বেলায় আমার এলাকায় এসে পদচারণা করেছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ধামরাইবাসীর পক্ষ থেকে আমি আমাদের এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।