ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলমান চিকিৎসায় জটিলতা না কাটলে তাঁকে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) বা হৃদযন্ত্রের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। গত রোববার রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ভর্তি করা হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, খালেদা জিয়ার নিউমোনিয়া ছাড়াও মাল্টিডিজিস জটিলতা কিছুটা বেড়েছে। বয়সের কারণে চাইলেও সব চিকিৎসা একসঙ্গে দেওয়া যাচ্ছে না। বেশ কয়েকটি পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো-খারাপ দুটোই আছে। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনকে সব মিলিয়ে সপ্তাহখানেক হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে থেকেই তিনি ঠান্ডা ও কাশিতে ভুগছিলেন।

এদিকে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের কেবিনে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোববার রাতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরেই খালেদা জিয়া ঘন ঘন অসুস্থ হচ্ছিলেন। এবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারণ, তাঁর কতগুলো সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। তাঁর বুকে সংক্রমণ হয়েছে। যেহেতু তাঁর হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল, তাঁর হার্টে স্থায়ী পেসমেকার আছে এবং হার্টে স্টেন্টিং (রিং পরানো) করা হয়েছিল। হার্ট ও ফুসফুস– দুটোই একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত খুব সমস্যা হচ্ছিল।

রোববার রাত ৮টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে আছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উৎকণ্ঠিত কোনো বিষয় আমরা মনে করছি না। পরে তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর পর্যবেক্ষণ করে কী ধরনের চিকিৎসার পরিবর্তন আনা যায়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা বোর্ড নেবে।

তিনি বলেন, শনিবার ভোর থেকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এ ছাড়া প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান হাসপাতালেই আছেন। তাদের আত্মীয়স্বজন চিকিৎসার ব্যাপারে সব সময় সহযোগিতা ও খোঁজখবর রাখছেন। অধ্যাপক জাহিদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ১১:০৭:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

এবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলমান চিকিৎসায় জটিলতা না কাটলে তাঁকে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) বা হৃদযন্ত্রের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। গত রোববার রাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ভর্তি করা হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, খালেদা জিয়ার নিউমোনিয়া ছাড়াও মাল্টিডিজিস জটিলতা কিছুটা বেড়েছে। বয়সের কারণে চাইলেও সব চিকিৎসা একসঙ্গে দেওয়া যাচ্ছে না। বেশ কয়েকটি পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো-খারাপ দুটোই আছে। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনকে সব মিলিয়ে সপ্তাহখানেক হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে থেকেই তিনি ঠান্ডা ও কাশিতে ভুগছিলেন।

এদিকে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের কেবিনে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোববার রাতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরেই খালেদা জিয়া ঘন ঘন অসুস্থ হচ্ছিলেন। এবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারণ, তাঁর কতগুলো সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। তাঁর বুকে সংক্রমণ হয়েছে। যেহেতু তাঁর হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল, তাঁর হার্টে স্থায়ী পেসমেকার আছে এবং হার্টে স্টেন্টিং (রিং পরানো) করা হয়েছিল। হার্ট ও ফুসফুস– দুটোই একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত খুব সমস্যা হচ্ছিল।

রোববার রাত ৮টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে আছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উৎকণ্ঠিত কোনো বিষয় আমরা মনে করছি না। পরে তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর পর্যবেক্ষণ করে কী ধরনের চিকিৎসার পরিবর্তন আনা যায়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা বোর্ড নেবে।

তিনি বলেন, শনিবার ভোর থেকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এ ছাড়া প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান হাসপাতালেই আছেন। তাদের আত্মীয়স্বজন চিকিৎসার ব্যাপারে সব সময় সহযোগিতা ও খোঁজখবর রাখছেন। অধ্যাপক জাহিদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।