ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জব্দ হেরোইনও কখনো ‘আটা-ময়দা’ হয়ে যায়, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধের নতুন উদ্যোগ, আইনি বৈধতা যাচাই শুরু বাংলাদেশ–মিয়ানমার হয়ে নতুন করিডোরের প্রস্তাব চীনের জার্মানিকে হারানোর আনন্দে জাতীয় ছুটি দিল ইকুয়েডর ইউক্রেনকে ইউরেনিয়াম সহায়তায় ক্ষোভে ফুঁসছে রাশিয়া আটকে থাকা ইরানি তহবিল দিয়ে ইরানের জন্যই মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে চান ট্রাম্প এক বছরের মধ্যেই গুমের সব মামলার নিষ্পত্তি: ট্রাইব্যুনাল অব্যবহৃত মোবাইল ডাটার মেয়াদ নিয়ে সংসদে ক্ষোভ রাফিনিয়াকে ঘিরে দেউলিয়ার গুঞ্জন, চাঞ্চল্য ফুটবল মহলে

‘আমি এখন কার জন্য বাঁচব?’—মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাতের আর্তনাদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

একটি সকাল, একটি পরিবার, আর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবকিছু বদলে যাওয়ার এক মর্মান্তিক গল্প। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে আজ সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী জুনায়েদ ইসলাম সিফাত।

ঘটনার দিন অন্য দিনের মতোই জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ। কিন্তু বাড়ি ফিরে তাকে দেখতে হয় জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য—রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার মা শাহিনুর বেগম এবং তিন বোন সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারের নিথর দেহ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এক পৈশাচিক হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন মা ও তিন মেয়ে। পরে অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় জনতা আটক করে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়।

তবে এই পরিবারের ট্র্যাজেডি শুরু হয়েছিল আরও আগে। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কামাল হোসেন। এরপর চরম অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান শাহিনুর বেগম। সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও শুরু করেছিলেন সিফাত।

স্বজনদের হারিয়ে ভেঙে পড়া সিফাত বারবার একটি প্রশ্নই করছেন—তার মা ও বোনদের অপরাধ কী ছিল? কার জন্য তিনি এখন বাঁচবেন?

বন্ধু ও স্বজনরা জানান, পরিবারের সবাই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবান। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি নির্মম ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের সঙ্গে নিহত পরিবারের পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরেই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রতিবেশীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

চার সদস্যকে হারিয়ে আজ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া সিফাতের কান্না আর আর্তনাদ যেন পুরো এলাকাকেই ভারী করে তুলেছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ভবিষ্যৎ—সবকিছুই যেন মুহূর্তের মধ্যে থেমে গেছে এক বিভীষিকাময় সকালে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জব্দ হেরোইনও কখনো ‘আটা-ময়দা’ হয়ে যায়, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘আমি এখন কার জন্য বাঁচব?’—মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাতের আর্তনাদ

আপডেট সময় ১১:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

একটি সকাল, একটি পরিবার, আর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবকিছু বদলে যাওয়ার এক মর্মান্তিক গল্প। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে আজ সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী জুনায়েদ ইসলাম সিফাত।

ঘটনার দিন অন্য দিনের মতোই জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ। কিন্তু বাড়ি ফিরে তাকে দেখতে হয় জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য—রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার মা শাহিনুর বেগম এবং তিন বোন সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারের নিথর দেহ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এক পৈশাচিক হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন মা ও তিন মেয়ে। পরে অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় জনতা আটক করে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়।

তবে এই পরিবারের ট্র্যাজেডি শুরু হয়েছিল আরও আগে। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কামাল হোসেন। এরপর চরম অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান শাহিনুর বেগম। সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও শুরু করেছিলেন সিফাত।

স্বজনদের হারিয়ে ভেঙে পড়া সিফাত বারবার একটি প্রশ্নই করছেন—তার মা ও বোনদের অপরাধ কী ছিল? কার জন্য তিনি এখন বাঁচবেন?

বন্ধু ও স্বজনরা জানান, পরিবারের সবাই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবান। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি নির্মম ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের সঙ্গে নিহত পরিবারের পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরেই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রতিবেশীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

চার সদস্যকে হারিয়ে আজ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া সিফাতের কান্না আর আর্তনাদ যেন পুরো এলাকাকেই ভারী করে তুলেছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ভবিষ্যৎ—সবকিছুই যেন মুহূর্তের মধ্যে থেমে গেছে এক বিভীষিকাময় সকালে।