ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এটি কেবল বাণিজ্যিক বা জ্বালানি সহযোগিতার বিষয় নয়; বরং ইউক্রেন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দেওয়ার একটি বার্তা। তার মতে, ইউরেনিয়াম সরবরাহের এই উদ্যোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
রাশিয়ার দাবি, আলোচনায় থাকা ইউরেনিয়াম মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি প্রস্তুতের পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় এটি তৃতীয় কোনো দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হতে পারে।
মস্কো বলছে, বিষয়টির সঙ্গে ‘ডার্টি বোমা’ তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই বলে যুক্তরাজ্য দাবি করলেও পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনের আওতায় এবং কঠোর তদারকির মধ্যে থাকা উচিত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) বিধান অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রাশিয়া।
একই সঙ্গে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী অবস্থানের অভিযোগও তুলেছে মস্কো। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে ইউক্রেনীয় হামলার অভিযোগে লন্ডন প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তবে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে রাশিয়ার সমালোচনার আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। ফলে ইউরেনিয়াম সরবরাহ পরিকল্পনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















