ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করেছেন এক পুলিশ সদস্য।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সী ওই নারী ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্ত দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন। সাঁতরে গিয়ে তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করেন।
পরে একটি নৌকার সহায়তায় তাকে নদীর পাড়ে এনে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, কনস্টেবল অমিত হাসান তার বিদায় উপলক্ষে ব্যাচমেট কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন। এ সময় তারা ওই নারীকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখেন।
পরে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চিকিৎসার খোঁজ নেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামের ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহ কিংবা স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকে ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। রাত ১২টার দিকে তাকে মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এদিকে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করায় কনস্টেবল অমিত হাসানের সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















