ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বোয়িং থেকে ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীর সামনেই ছাত্রদলের দু’গ্রুপের হট্টগোল-হাতাহাতি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সমর্থন না দিতে কালাসকে সতর্ক করলেন আরাগচি হজের কোটায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৫ম জাতিসংঘে ইসরায়েলের হয়ে ‘ব্যাট করলেন’ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান হাঁস-মুরগি-লাউ নিয়ে ওসিকে বিদায় জানাতে এলেন এলাকাবাসী গণমানুষের কষ্ট লাঘব না হলে রাজপথে নামতে বাধ্য হব: চরমোনাই পীর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গণধোলাইয়ের নির্দেশ বিএনপি নেতার শিবির সভাপতি ইমরান ক্ষমা না চাইলে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবে ছাত্রদল, ২৪ ঘণ্টার আল্টেমেটাম

ফার্মগেটে মেট্রোরেল পিলার থেকে পড়ে তরুণ উদ্যোক্তার মৃত্যু: আগের রাতের ফেসবুক পোস্টে জীবনের অনুযোগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৯৫২ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মেট্রোরেলের একটি পিলার থেকে ভারী ধাতব যন্ত্রাংশ—বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে প্রাণ হারান ৩৫ বছর বয়সী তরুণ উদ্যোক্তা আবুল কালাম। মুহূর্তেই থেমে যায় তার স্বপ্নময় জীবন, আর পরিবার ও প্রিয়জনদের হৃদয়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের সন্তান আবুল কালাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। সংসার নিয়ে ছিলেন নারায়ণগঞ্জে—যেখানে অপেক্ষায় ছিল তার পাঁচ বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ ও তিন বছরের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই মানুষটিকে হারিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা পরিবার।

দুর্ঘটনার আগের রাতেই তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে পড়ে—
“ইচ্ছে তো অনেক। আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম।”
পরের দিনই সেই জীবন তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে থামিয়ে দিল চিরতরে।

তার বন্ধু তারেক আজিজ পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, “কিছু মৃত্যু মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়।”

স্থানীয়রা বলছেন, এ দুর্ঘটনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। নাগরিক নিরাপত্তার ঘাটতি আর মনোযোগের অভাব এমন ঘটনাকে বাড়িয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত।

সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, আবুল কালাম ছিলেন প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী, স্বপ্নবাজ একজন মানুষ। তার আকস্মিক মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

মা-বাবা হারানো এই তরুণ তার স্ত্রী ও দুই শিশুকে রেখে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেন অবুঝ এক অনিশ্চিত মুহূর্তে। তাদের পথচলা এখন শুরু হলো বাবাহীন এক কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর নিরাপত্তা কতটা অপরিহার্য। একটি ফেসবুক পোস্টের নীরব আর্তি আর একটি যান্ত্রিক অবহেলা মিলে শেষ হয়ে গেল একটি স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়িং থেকে ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ফার্মগেটে মেট্রোরেল পিলার থেকে পড়ে তরুণ উদ্যোক্তার মৃত্যু: আগের রাতের ফেসবুক পোস্টে জীবনের অনুযোগ

আপডেট সময় ১০:৫৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

 

ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মেট্রোরেলের একটি পিলার থেকে ভারী ধাতব যন্ত্রাংশ—বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে প্রাণ হারান ৩৫ বছর বয়সী তরুণ উদ্যোক্তা আবুল কালাম। মুহূর্তেই থেমে যায় তার স্বপ্নময় জীবন, আর পরিবার ও প্রিয়জনদের হৃদয়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের সন্তান আবুল কালাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। সংসার নিয়ে ছিলেন নারায়ণগঞ্জে—যেখানে অপেক্ষায় ছিল তার পাঁচ বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ ও তিন বছরের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই মানুষটিকে হারিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা পরিবার।

দুর্ঘটনার আগের রাতেই তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে পড়ে—
“ইচ্ছে তো অনেক। আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম।”
পরের দিনই সেই জীবন তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে থামিয়ে দিল চিরতরে।

তার বন্ধু তারেক আজিজ পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, “কিছু মৃত্যু মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়।”

স্থানীয়রা বলছেন, এ দুর্ঘটনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। নাগরিক নিরাপত্তার ঘাটতি আর মনোযোগের অভাব এমন ঘটনাকে বাড়িয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত।

সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, আবুল কালাম ছিলেন প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী, স্বপ্নবাজ একজন মানুষ। তার আকস্মিক মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

মা-বাবা হারানো এই তরুণ তার স্ত্রী ও দুই শিশুকে রেখে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেন অবুঝ এক অনিশ্চিত মুহূর্তে। তাদের পথচলা এখন শুরু হলো বাবাহীন এক কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর নিরাপত্তা কতটা অপরিহার্য। একটি ফেসবুক পোস্টের নীরব আর্তি আর একটি যান্ত্রিক অবহেলা মিলে শেষ হয়ে গেল একটি স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ।