এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের এই আইনপ্রণেতা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই প্রশাসন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ করেছে, তেলের মজুত খালি করেছে, আমাদের সেনা সদস্যদের বলিরকাঠ বানিয়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে, দেশের ঋণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে উপেক্ষা করেছে, আর এই সবকিছুই করা হয়েছে ইসরাইলের জন্য।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর হামলা আপাতত বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বড় ধরনের পতন হয়েছে। মূলত সংঘাত কমে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে— এমন আশায় একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে। লেনদেনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে নেমে আসে। টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার পর দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এর আগে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ কমে যাওয়ায় ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। এছাড়া সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল–মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল রপ্তানিও ব্যাহত হয়।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য গণমাধ্যমকে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, ‘এখন প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে বলে আশাবাদ বাড়ছে’। তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও স্পষ্টতা রেখে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ফিরে যাওয়া ইতিবাচক সূচনা হতে পারে।’
তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও, জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার–এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এছাড়া গত রোববার ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল–মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও কমে যায়। তবে চীনের একটি সুপারট্যাংকার ওই প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এমএসটি মারকুই–এর বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে হবে। কারণ অনেক শিপিং কোম্পানি এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে আরও আস্থা ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তারা খালি জাহাজ প্রণালিতে পাঠাতে চায়বে না।’

ডেস্ক রিপোর্ট 























