চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেছেন, ‘সপরিবারে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছেন পিন্টু। পুলিশ তাদের উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করি তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে পারব।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তালা ভেঙে পিন্টুর রুমে পুলিশের একটি টিম প্রবেশ করে। পরে ভেতরে প্রবেশের পর ঘরের মালামাল অগোছালো দেখতে পায়। আগেই রুমের মালামাল সরিয়ে ফেলার আলামত পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়ির মালিকও উপস্থিত ছিলেন। এতে অনেকটা নিশ্চিত তিনি স্বেচ্ছায় সপরিবারে আত্মগোপনে গিয়েছেন।’
এর আগে চাঁদপুরের পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ নন বরং সে তার প্রতারণা ঠেকাতে আত্মগোপনে গিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পারে।
প্রথম পর্যায়ে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের হেডলাইনে ‘নিখোঁজ’ শব্দটি ব্যবহৃত হলেও ধীরে ধীরে সে যে পরিবারসহ আত্মগোপনে গিয়েছেন তার প্রমাণ পাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মী হতে শুরু করে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণ। দিনভর পিন্টু দাস প্রসঙ্গে খোঁজ খবর নিলে এসব তথ্য কালবেলার এ প্রতিবেদকের হাতেও তার প্রতারণার তথ্য উঠে এসেছে।
চাঁদপুরে এক পরিবারের ৪ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ
স্থানীয়রা জানান, পিন্টু দাস এ পর্যন্ত কয়েক দফা তার দোকান বদলেছে। তবে দীর্ঘ সময় চাঁদপুরে থাকায় তার প্রতি গ্রাহকদের কিছুটা আস্থা তৈরি হয়েছিল। আর তাতেই সে প্রতারণার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতো। সবশেষ তিনি শহরের আখন্দ মার্কেটে এস কে জুয়েলার্স নামে দোকান চালাতেন। সেখান থেকেই তিনি সপরিবারে শহর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পাওনাদাররা থানায় অভিযোগ নিয়ে হাজির হতে থাকে।
চাঁদপুরের সনাতনী নেতারা বলেন, ‘চাঁদপুরে পিন্টু দাস নামক স্বর্ণকারকে নিয়ে নিখোঁজ নামক নিউজ ছড়িয়ে পড়লে আমরা পিন্টু দাসের বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি তিনি বন্ধক রাখা স্বর্ণ আত্মসাৎ ও বহু টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপন চলে গিয়েছেন। বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যমকর্মী হতে সবাই ভুল বোঝাবুঝিতে নিখোঁজ ভাবলেও পরে সত্য উদ্ঘাটন হয়।’
তারা বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই চাঁদপুর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে সাম্প্রদায়িক উদ্বেগজনক কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কাজেই চাঁদপুরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করছি। জেলা প্রশাসন ও এমপি মহোদয় সনাতনী সমাজের পূজা পার্বন হতে সব উৎসবে যেভাবে পাশে থাকছে তা প্রশংসনীয়।’
চাঁদপুর জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার বলেন, ‘পিন্টুকে নিয়ে তার পাওনাদারদেরসহ একটি দরবারও হয়েছিল। তখন তার ঋণের বিষয়ে আমরা জানতে পারি। সে আমাদের বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সাধারণ সদস্য।’
গত ১৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পিন্টু দাসের ভাড়া বাসার বাড়ির মালিক আলহাজ আ. গফুর সাহেবের ছেলে রাসেল খান পিন্টু দাসের খোঁজ নিতে গিয়ে বাসার দরজায় তালা দেখতে পান। পরে তার ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
আশপাশের লোকজনের কাছে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাড়ির মালিকের ছোট ছেলে রাসেল খান।
রাসেল খান বলেন, বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ তার বাড়িতে আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় চাঁদপুর ডিবি পুলিশ আত্মগোপনে থাকা পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় আবারও তল্লাশি চালায়। পুলিশ সার্বক্ষণিক আত্মগোপনে থাকা পিন্টু দাসের তথ্য পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘পিন্টু দাসের বন্দকি ব্যবসার পাওনাদার অনেকেই থানায় অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করছেন। এতেই বোঝা যায় পিন্টু ঋণের চাপে আত্মগোপনে গিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ’- এমন শিরোনাম দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। অনেকে পুরো নিউজটি না পড়েই মন্তব্য করছেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং মানুষ সচেতন হয়েছে। আমরা পিন্টু দাসসহ তার পরিবার কোথায় আছে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















