বিরোধী দলের সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে এটি তাদের প্রথম অভিজ্ঞতা, তাই সমালোচনায় ভুল-ত্রুটি থাকাটা স্বাভাবিক।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে নানা সমালোচনা করা হলেও সেগুলোকে তিনি খুব বেশি আমলে নিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “আপনারা এই প্রথম বিরোধী দলে এসেছেন। অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। আরও দুই-চারবার বিরোধী দলে থাকলে সমালোচনা করাটাও বুঝে যাবেন।”
বাজেটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই সরকার এ বাজেট প্রণয়ন করেছে। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্য পরিকল্পনাই বাজেটের মূল বিষয় এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করবে।
এ সময় অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাষ্ট্র পরিচালনা বা অনুন্নয়ন ব্যয় ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা কমিয়ে বর্তমান বাজেটে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে আনা হয়েছে। ফলে অপচয় কমিয়ে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
মন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা এখনও বহন করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। ওই ঋণের সুদ পরিশোধেই বাজেটের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। এই চাপ না থাকলে অনুন্নয়ন ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপি সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রসঙ্গও টানেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ থেকে ৬ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। আর বর্তমান বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংসদে বাজেট আলোচনা ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই মন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















