ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান ৪৬ শতাংশ মার্কিনি আম্মার ও শিবির নেতাদের মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত, লক্ষ্মীপুরে পাশাপাশি দাফন দুই ভাই চাপের মুখে আন্দোলনকারীদের মামলা প্রত্যাহারের পথে শুভেন্দু সরকার গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী আহত জুলাই যোদ্ধা সুজনের নবজাতক কন্যার জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন হামলায় ইরানের ১২ সেতু, ২ টানেল ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলিদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল মালয়েশিয়া বিশ্ব ফুটবল পরিচালনায় ‘অযোগ্য’ ইনফান্তিনো: অভিযোগ ভারতের ৪৪ বিমানবন্দর প্রকল্পের পেছনের কারণ কী

জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে তোপের মুখে এমপি কঙ্গনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের জেনজি প্রজন্মের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চরম অপমানজনক, কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ ভারতের একাধিক প্রধান শহরে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা, স্লোগান ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে নানামুখী আলোচনাসমালোচনা চলছে। আন্দোলনকারীদের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও মেমে একদিকে যেমন সৃজনশীলতা ও রসবোধের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে অশালীন ও কুরুচিকর ভাষার ব্যবহারও নজরে এসেছে।

যন্তর মন্তর ও দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া জেনজি বিক্ষোভকারীদের ভাষা ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোকেবমি আসার মতোআখ্যা দিয়ে কঙ্গনা লিখেছেন, আমার পুরো জীবনে এক জায়গায় এত কদর্যতা বা রূপহীনতা আমি আর কখনও দেখিনি। জেনজি বিক্ষোভকারীদের এসব রিলস দেখলে বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে ও যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেজীবনের কোনো ফ্রেমে এত কর্কশ ও বিশ্রী দৃশ্য আমি একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি। আন্দোলনকারীদের পরিবার ও প্রতিপালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিজেপি সংসদ সদস্য কুরুচিকর সুরে মন্তব্য করেন, এওও, এদের জন্ম দিচ্ছে কে, আর বড়ই বা করছে কে?

বিক্ষোভকারীরা নিজেদেরককরোচবা তেলাপোকা বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা কটাক্ষ করে বলেন, ভারত হলো বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত ও সাংস্কৃতিক আভিজাত্যে পরিবেষ্টিত। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলছো এবং দেখতে ও আচরণেও ঠিক তাদের মতোই মনে হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো বিরোধ বা নতুনত্ব নেই, তোমরা কেবল পুরো বিশ্বকে তোমাদের নোংরামো, আবর্জনা ও কদর্যতার মুখে ফেলছো। এসব রিলস দেখে আমার মানসিক আঘাত লেগেছে। আমার এখন কিছুটা সুস্থতা ও ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োজন।

তবে কঙ্গনার ক্ষোভের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের দিকে। বিক্ষোভের অংশ হওয়াহিন্দু নারীদেরলক্ষ্য করে তিনি বলেন, তারা তথাকথিতপশ্চিমা ভাবধারায় বিশ্বাসী ভারতীয় নারী’, যারা এতইদুর্নীতিগ্রস্ত ও কদর্যযে তারা কখনো ভালো গৃহিণীও হতে পারবে না। এই বলিউড তারকা আরও লেখেন, তারা মাদক ও মদ সেবন এবং মাবাবার টাকায় নির্লজ্জভাবে জীবনযাপন করার স্বাধীনতাকে গর্বের সঙ্গে জাহির করে। একপর্যায়ে পুরো তরুণ প্রজন্মকে কড়া আক্রমণ করে কঙ্গনা তাদেরজেনারেশন গাটারবাড্রেনের প্রজন্মবলে আখ্যা দেন। তিনি লেখেন, আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। সমাজ বা ব্যবস্থার জন্য এদের কোনো অবদান নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই কদর্য ও কুরুচিকর যে সাধারণ গৃহিণী হওয়ার যোগ্যতাও এদের নেই।

কঙ্গনা রানাওয়াতের এই তীর্যক ও আপত্তিকর মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জাগতাপ প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের যেভাবে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে, তা নিয়ে কঙ্গনার কোনো অনুশোচনা আছে কি না। জাগতাপ বলেন, এই আন্দোলনের সময় আমাদের মেয়ে ও সন্তানদের যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, পেটানো হয়েছে ও তাদের সঙ্গে যে কুরুচিকর আচরণ করা হয়েছেনিজে একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে কঙ্গনার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করলো না? তার এই মানসিকতা আমাকে সত্যিই স্তম্ভিত করেছে। অন্যদিকে এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। 

তিনি বলেন, কঙ্গনা রানাওয়াত যদি সত্যি এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন তো, তিনি কি নিটএর পুরো নাম জানে? নিশ্চিতভাবেই জানেন না। পুরো জেনজি প্রজন্মের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেখা উচিত, তার দলের সংসদ সদস্যরা দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য কী ধরনের কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করছেন। আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং রাজপথে নেমে আন্দোলন করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টাকে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান ৪৬ শতাংশ মার্কিনি

জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে তোপের মুখে এমপি কঙ্গনা

আপডেট সময় ০৩:১৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এবার ভারতের জেনজি প্রজন্মের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চরম অপমানজনক, কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ ভারতের একাধিক প্রধান শহরে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা, স্লোগান ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে নানামুখী আলোচনাসমালোচনা চলছে। আন্দোলনকারীদের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও মেমে একদিকে যেমন সৃজনশীলতা ও রসবোধের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে অশালীন ও কুরুচিকর ভাষার ব্যবহারও নজরে এসেছে।

যন্তর মন্তর ও দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া জেনজি বিক্ষোভকারীদের ভাষা ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোকেবমি আসার মতোআখ্যা দিয়ে কঙ্গনা লিখেছেন, আমার পুরো জীবনে এক জায়গায় এত কদর্যতা বা রূপহীনতা আমি আর কখনও দেখিনি। জেনজি বিক্ষোভকারীদের এসব রিলস দেখলে বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে ও যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেজীবনের কোনো ফ্রেমে এত কর্কশ ও বিশ্রী দৃশ্য আমি একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি। আন্দোলনকারীদের পরিবার ও প্রতিপালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিজেপি সংসদ সদস্য কুরুচিকর সুরে মন্তব্য করেন, এওও, এদের জন্ম দিচ্ছে কে, আর বড়ই বা করছে কে?

বিক্ষোভকারীরা নিজেদেরককরোচবা তেলাপোকা বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে কঙ্গনা কটাক্ষ করে বলেন, ভারত হলো বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত ও সাংস্কৃতিক আভিজাত্যে পরিবেষ্টিত। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলছো এবং দেখতে ও আচরণেও ঠিক তাদের মতোই মনে হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো বিরোধ বা নতুনত্ব নেই, তোমরা কেবল পুরো বিশ্বকে তোমাদের নোংরামো, আবর্জনা ও কদর্যতার মুখে ফেলছো। এসব রিলস দেখে আমার মানসিক আঘাত লেগেছে। আমার এখন কিছুটা সুস্থতা ও ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োজন।

তবে কঙ্গনার ক্ষোভের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের দিকে। বিক্ষোভের অংশ হওয়াহিন্দু নারীদেরলক্ষ্য করে তিনি বলেন, তারা তথাকথিতপশ্চিমা ভাবধারায় বিশ্বাসী ভারতীয় নারী’, যারা এতইদুর্নীতিগ্রস্ত ও কদর্যযে তারা কখনো ভালো গৃহিণীও হতে পারবে না। এই বলিউড তারকা আরও লেখেন, তারা মাদক ও মদ সেবন এবং মাবাবার টাকায় নির্লজ্জভাবে জীবনযাপন করার স্বাধীনতাকে গর্বের সঙ্গে জাহির করে। একপর্যায়ে পুরো তরুণ প্রজন্মকে কড়া আক্রমণ করে কঙ্গনা তাদেরজেনারেশন গাটারবাড্রেনের প্রজন্মবলে আখ্যা দেন। তিনি লেখেন, আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। সমাজ বা ব্যবস্থার জন্য এদের কোনো অবদান নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই কদর্য ও কুরুচিকর যে সাধারণ গৃহিণী হওয়ার যোগ্যতাও এদের নেই।

কঙ্গনা রানাওয়াতের এই তীর্যক ও আপত্তিকর মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জাগতাপ প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের যেভাবে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে, তা নিয়ে কঙ্গনার কোনো অনুশোচনা আছে কি না। জাগতাপ বলেন, এই আন্দোলনের সময় আমাদের মেয়ে ও সন্তানদের যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, পেটানো হয়েছে ও তাদের সঙ্গে যে কুরুচিকর আচরণ করা হয়েছেনিজে একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে কঙ্গনার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করলো না? তার এই মানসিকতা আমাকে সত্যিই স্তম্ভিত করেছে। অন্যদিকে এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। 

তিনি বলেন, কঙ্গনা রানাওয়াত যদি সত্যি এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন তো, তিনি কি নিটএর পুরো নাম জানে? নিশ্চিতভাবেই জানেন না। পুরো জেনজি প্রজন্মের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেখা উচিত, তার দলের সংসদ সদস্যরা দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য কী ধরনের কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করছেন। আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং রাজপথে নেমে আন্দোলন করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টাকে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।