ঢাকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রিকশা-ভ্যান-অটোচালক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন তারেক রহমান জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন: যুগ্ম মহাসচিব ক্ষমতায় এলে হাদির হত্যার বিচার করবে বিএনপি, ইনশাআল্লাহ: মির্জা ফখরুল গত ৮ মাস দেশেই পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে আসছে ‘গ্রিনল্যান্ডের জনগণ রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিতে পারে’ একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও টাকা কোথা থেকে আসবে বলছে না: নাহিদ বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে নিবিড় নজর ভারতের, সামরিক যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা: সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে খুন, টাকা-স্বর্ণ লুট জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় এবি পার্টির সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু

জামালপুরের মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদে ৩৫ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছয় লাখ টাকা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ৩৫ মাসে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। বিপুল অঙ্কের এই বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় চরম সংকটে পড়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ পৌরশহরের বালিজুড়ী বাজার এলাকায় ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মডেল মসজিদের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছরে মসজিদের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটি কিংবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

মডেল মসজিদে আজান, নামাজ ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও দুইজন খাদেম নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন। তাদের সম্মানি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বহন করলেও মসজিদের অন্যান্য ব্যয়—পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ বিল ও দৈনন্দিন পরিচালন খরচ—নামাজরত মুসল্লিদের দানের অর্থ থেকেই চালানো হচ্ছে।

মসজিদটিতে একাধিক নামাজ কক্ষ, দামি ঝাড়বাতি, শতাধিক লাইট, ফ্যান ও এসি রয়েছে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক অজুখানা, আধুনিক টয়লেট, অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামিক গবেষণা ও শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আবাসন ও অতিথিশালা, মৃতদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থাও আছে।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আসাদুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মডেল মসজিদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসলেও মুসল্লিদের দান থেকে মাসে আয় হয় মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা। বালিজুড়ী বাজার এলাকায় একাধিক মসজিদ থাকায় এবং বাজার থেকে কিছুটা দূরে মডেল মসজিদ নির্মিত হওয়ায় মুসল্লির উপস্থিতি কম, ফলে দানের পরিমাণও কম হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মডেল মসজিদ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এতে বকেয়ার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, তিনি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। মডেল মসজিদের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল একবারে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। মসজিদের আয় বৃদ্ধির উপায় এবং বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রিকশা-ভ্যান-অটোচালক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন তারেক রহমান

জামালপুরের মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদে ৩৫ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছয় লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৩:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ৩৫ মাসে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। বিপুল অঙ্কের এই বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় চরম সংকটে পড়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ পৌরশহরের বালিজুড়ী বাজার এলাকায় ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মডেল মসজিদের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছরে মসজিদের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটি কিংবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

মডেল মসজিদে আজান, নামাজ ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন ও দুইজন খাদেম নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন। তাদের সম্মানি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বহন করলেও মসজিদের অন্যান্য ব্যয়—পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ বিল ও দৈনন্দিন পরিচালন খরচ—নামাজরত মুসল্লিদের দানের অর্থ থেকেই চালানো হচ্ছে।

মসজিদটিতে একাধিক নামাজ কক্ষ, দামি ঝাড়বাতি, শতাধিক লাইট, ফ্যান ও এসি রয়েছে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক অজুখানা, আধুনিক টয়লেট, অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামিক গবেষণা ও শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আবাসন ও অতিথিশালা, মৃতদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থাও আছে।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আসাদুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মডেল মসজিদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসলেও মুসল্লিদের দান থেকে মাসে আয় হয় মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা। বালিজুড়ী বাজার এলাকায় একাধিক মসজিদ থাকায় এবং বাজার থেকে কিছুটা দূরে মডেল মসজিদ নির্মিত হওয়ায় মুসল্লির উপস্থিতি কম, ফলে দানের পরিমাণও কম হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মডেল মসজিদ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এতে বকেয়ার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, তিনি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। মডেল মসজিদের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল একবারে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। মসজিদের আয় বৃদ্ধির উপায় এবং বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।