ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে ফি অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা দিলেন চিকিৎসক তিন দিনের সফরে ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় অবসরের আবেদন কারাগারে গান-কবিতার আড্ডা, আইভীর কবিতায় সুর দেন মমতাজ আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত ৬, শোকের ছায়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’ যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল নিখোঁজের ৬ দিন পর এভারেস্টে জীবিত উদ্ধার নেপালি শেরপা

রাতে ডাকসুর মিছিলে স্লোগান ‘তারেক রহমান জানেন নাকি, রেজাউল খুনের নায়ক আপনি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে আয়োজিত এ বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘তারেক রহমান জানেন নাকি- রেজাউল খুনের নায়ক আপনি’, ‘ক্ষমতা না জনতা – জনতা, জনতা’, ‘নারীর ওপর হামলা কেন- তারেক রহমান জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এদিকে মিছিলটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের ডাক দিয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ সংবাদ বার্তায় বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা তো শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এবার শুরু হলো লাশ ফেলা। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের থানা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে খুন করে দিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।’

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বিকালে সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে দেরি করে এসে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করে।’ তিনি দাবি করেন, ‘এ ঘটনায় ৫০-এর বেশি জামায়াত সমর্থক আহত হন। তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম মারা যান। এই খুনের দায় তারেক রহমানকে নিতে হবে।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘একটি ফ্রি ফেয়ার নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাসী, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা বাংলাদেশে মাসল পাওয়ার ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমার মা-বোনদের ওপর হামলা করছে। কাপুরুষের দল- তোদের সাবধান করে দিচ্ছি, আর কোনোদিন যদি আমার মা-বোনের ওপর হামলা হয়, তোদের ঠিকানা এই বাংলাদেশে হবে না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি সেই হাসিনার রাজনীতি করতে চান, সেই সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চান, তাহলে আপনাদের ঠিকানা বাংলাদেশে হবে না।’ এ সময় তিনি খুনের ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি দাবি করেন, ‘বিএনপি নিজেদের মধ্যে কনফ্লিক্টে ২০০-এর অধিক মানুষকে মেরে ফেলেছে। যাদের হাতে নিজেদের দলের লোকেরা নিরাপদ না, তাদের হাতে কিভাবে দেশ নিরাপদ?’

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যদি আপনারা খুনিদের এবং নারী আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমরা ধরে নেবো আপনারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েই খুন করছেন এবং নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন।’ সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘তারেক রহমান, আপনি বলেছিলেন ‘‘আই হ্যাভ প্ল্যান’’। কিন্তু সারা দেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার নেতাকর্মীরা পাগলা কুকুরের মতো হয়ে উঠেছে। সাবধান হয়ে যান- নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজদের জায়গা হবে না।’

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা একটি নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।’ ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ তার বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির হায়েনারা আমাদের পর্দাশীল নারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি এই খুনিদের বিরুদ্ধে জবাব দিয়ে দেবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে ফি অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা দিলেন চিকিৎসক

রাতে ডাকসুর মিছিলে স্লোগান ‘তারেক রহমান জানেন নাকি, রেজাউল খুনের নায়ক আপনি’

আপডেট সময় ০৯:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

এবার শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে আয়োজিত এ বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘তারেক রহমান জানেন নাকি- রেজাউল খুনের নায়ক আপনি’, ‘ক্ষমতা না জনতা – জনতা, জনতা’, ‘নারীর ওপর হামলা কেন- তারেক রহমান জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এদিকে মিছিলটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের ডাক দিয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ সংবাদ বার্তায় বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা তো শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এবার শুরু হলো লাশ ফেলা। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের থানা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে খুন করে দিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।’

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বিকালে সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে দেরি করে এসে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করে।’ তিনি দাবি করেন, ‘এ ঘটনায় ৫০-এর বেশি জামায়াত সমর্থক আহত হন। তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম মারা যান। এই খুনের দায় তারেক রহমানকে নিতে হবে।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘একটি ফ্রি ফেয়ার নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাসী, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা বাংলাদেশে মাসল পাওয়ার ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমার মা-বোনদের ওপর হামলা করছে। কাপুরুষের দল- তোদের সাবধান করে দিচ্ছি, আর কোনোদিন যদি আমার মা-বোনের ওপর হামলা হয়, তোদের ঠিকানা এই বাংলাদেশে হবে না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি সেই হাসিনার রাজনীতি করতে চান, সেই সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে চান, তাহলে আপনাদের ঠিকানা বাংলাদেশে হবে না।’ এ সময় তিনি খুনের ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি দাবি করেন, ‘বিএনপি নিজেদের মধ্যে কনফ্লিক্টে ২০০-এর অধিক মানুষকে মেরে ফেলেছে। যাদের হাতে নিজেদের দলের লোকেরা নিরাপদ না, তাদের হাতে কিভাবে দেশ নিরাপদ?’

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যদি আপনারা খুনিদের এবং নারী আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমরা ধরে নেবো আপনারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েই খুন করছেন এবং নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন।’ সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘তারেক রহমান, আপনি বলেছিলেন ‘‘আই হ্যাভ প্ল্যান’’। কিন্তু সারা দেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার নেতাকর্মীরা পাগলা কুকুরের মতো হয়ে উঠেছে। সাবধান হয়ে যান- নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজদের জায়গা হবে না।’

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা একটি নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।’ ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ তার বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপির হায়েনারা আমাদের পর্দাশীল নারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি এই খুনিদের বিরুদ্ধে জবাব দিয়ে দেবে।’