ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা: মির্জা ফখরুল এবার শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আল্লাহ আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন: কারামুক্তির পর সিদ্দিক  পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ: ট্রাম্প বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৩ জেলার পাঁচ নদীর পানি বিএনপির সমাবেশে আইফোন চুরি, কুরআন তেলাওয়াত করিয়ে তওবা করালো জনতা সরকারের কাজের গতি দেখে বিরোধী দল ভয় পাচ্ছে: আবদুস সালাম রাজনৈতিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে বিএনপি–জামায়াত বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ায় দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে সবার পেছনে বাংলাদেশ

ইরানের হামলায় মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ২ টুকরো, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড় হিসেবে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ই৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) গোয়েন্দা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন বিমানটি মাঝখান থেকে দুই টুকরো হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, এটি ছিল তাদেরওয়েভ ৮৪’ (Wave 84) অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়। হামলায় তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত মিসাইলের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এই হামলা চালানো হয়।

আমাদের হাতে আসা ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর ৮১০০০৫ নম্বর যুক্ত ই৩জি সেন্ট্রি বিমানটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানের পেছনের অংশ, যেখানে বিশাল ঘূর্ণায়মান রাডার ডোম (Radar Dome) থাকে, সেটি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিমানটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও স্যাটেলাইট ইমেজে একাধিক কেসি১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান এবং ঘাঁটির লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। আক্রান্ত বিমানটি সাধারণ কোনো যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি মার্কিন আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের মূল শক্তি ‘AWACS’ (Airborne Warning and Control System)

কাজ: এটি আকাশে উড়ন্ত রাডার স্টেশন হিসেবে কাজ করে, যা ২৫০ মাইলের বেশি দূর থেকে শত্রু বিমান বা মিসাইল শনাক্ত করতে পারে।

মূল্য: প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশেষত্ব: এর পিঠে থাকা ৩০ ফুট চওড়া ঘূর্ণায়মান রাডার ডোমটি যুদ্ধের ময়দানে রিয়েলটাইম তথ্য আদানপ্রদান এবং কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।

এই হামলার পর রিয়াদ এবং আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী রিয়াদের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করার দাবি করলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই, তাদের ৮২ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে দমনে আরও কঠোর হওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সৌদি আরব ও ইরানের সরাসরি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্যসূত্র: টি ও আই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা: মির্জা ফখরুল

ইরানের হামলায় মার্কিন গোয়েন্দা বিমান ২ টুকরো, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় ০১:৫১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড় হিসেবে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ই৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) গোয়েন্দা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন বিমানটি মাঝখান থেকে দুই টুকরো হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, এটি ছিল তাদেরওয়েভ ৮৪’ (Wave 84) অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়। হামলায় তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত মিসাইলের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এই হামলা চালানো হয়।

আমাদের হাতে আসা ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর ৮১০০০৫ নম্বর যুক্ত ই৩জি সেন্ট্রি বিমানটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানের পেছনের অংশ, যেখানে বিশাল ঘূর্ণায়মান রাডার ডোম (Radar Dome) থাকে, সেটি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিমানটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও স্যাটেলাইট ইমেজে একাধিক কেসি১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান এবং ঘাঁটির লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। আক্রান্ত বিমানটি সাধারণ কোনো যুদ্ধবিমান নয়, বরং এটি মার্কিন আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের মূল শক্তি ‘AWACS’ (Airborne Warning and Control System)

কাজ: এটি আকাশে উড়ন্ত রাডার স্টেশন হিসেবে কাজ করে, যা ২৫০ মাইলের বেশি দূর থেকে শত্রু বিমান বা মিসাইল শনাক্ত করতে পারে।

মূল্য: প্রতিটি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশেষত্ব: এর পিঠে থাকা ৩০ ফুট চওড়া ঘূর্ণায়মান রাডার ডোমটি যুদ্ধের ময়দানে রিয়েলটাইম তথ্য আদানপ্রদান এবং কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।

এই হামলার পর রিয়াদ এবং আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী রিয়াদের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করার দাবি করলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “ইরানের কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী অবশিষ্ট নেই, তাদের ৮২ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে দমনে আরও কঠোর হওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সৌদি আরব ও ইরানের সরাসরি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্যসূত্র: টি ও আই