ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদ আমাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব নিতে রাজি করিয়েছিলেন: ড. ইউনূস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাকে সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য রাজি করাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। রোববার (২৮ জুন) সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে ইউনুস সেন্টার এবং গ্রামীণ গ্রুপ আয়োজিত ১৬তমসোশ্যাল বিজনেস ডে (সামাজিক ব্যবসা দিবস) সমাপনী দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান।

সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘আসিফই সেই তরুণ, যে আমাকে এই দায়িত্ব নিতে জোর করেছিল।. ইউনুস জানান, শেখ হাসিনার পতনের সময় তিনি প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নিতে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। আসিফ মাহমুদ তখন বারবার তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। শুরুতে ড. ইউনুস আসিফের এই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

. ইউনুস বলেন, ‘আমি বারবার আসিফকে বলছিলাম, অন্য কাউকে খুঁজে নাও। আমি এই ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত নই। আমি শুধু সেই কাজগুলোই করি যা করতে আমি আনন্দ পাই।জবাবে আসিফ মাহমুদ তাকে বলেছিলেন, ‘অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। পুরো দেশ একটি সরকারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আপনি রাজি না হওয়ার কারণে তিন দিন ধরে দেশে কোনো সরকার নেই।

আসিফের এই কথার পর ড. ইউনুস দায়িত্ব নিতে সম্মতি জানান। সম্মতি দেওয়ার সাথে সাথেই আসিফ তাকে বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব বিমানের টিকিট কেটে চলে আসুন। প্রথম ফ্লাইটেই চলে আসুন।অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের আরেক শীর্ষ নেতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ড. ইউনুস। নাহিদকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সে কেবল একজন ব্যক্তি নয়, সে নিজেই একটি ইতিহাস।

নিরাপত্তা বাহিনীর চরম দমনপীড়ন সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম যেভাবে ছাত্র আন্দোলন সফল করে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন, তার কৃতিত্ব দেন ড. ইউনুস। তিনি বলেন, ‘তারা সব ধরনের চেষ্টা করেছিল। মানুষ হত্যা করেছে, তাদের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে। তিন সপ্তাহে রাজপথে ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তারা সেখানেই ছিল এবং নাহিদ ছিল সবার সামনে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদ আমাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব নিতে রাজি করিয়েছিলেন: ড. ইউনূস

আপডেট সময় ১০:১৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাকে সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য রাজি করাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। রোববার (২৮ জুন) সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে ইউনুস সেন্টার এবং গ্রামীণ গ্রুপ আয়োজিত ১৬তমসোশ্যাল বিজনেস ডে (সামাজিক ব্যবসা দিবস) সমাপনী দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান।

সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘আসিফই সেই তরুণ, যে আমাকে এই দায়িত্ব নিতে জোর করেছিল।. ইউনুস জানান, শেখ হাসিনার পতনের সময় তিনি প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নিতে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। আসিফ মাহমুদ তখন বারবার তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। শুরুতে ড. ইউনুস আসিফের এই অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

. ইউনুস বলেন, ‘আমি বারবার আসিফকে বলছিলাম, অন্য কাউকে খুঁজে নাও। আমি এই ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত নই। আমি শুধু সেই কাজগুলোই করি যা করতে আমি আনন্দ পাই।জবাবে আসিফ মাহমুদ তাকে বলেছিলেন, ‘অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। পুরো দেশ একটি সরকারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আপনি রাজি না হওয়ার কারণে তিন দিন ধরে দেশে কোনো সরকার নেই।

আসিফের এই কথার পর ড. ইউনুস দায়িত্ব নিতে সম্মতি জানান। সম্মতি দেওয়ার সাথে সাথেই আসিফ তাকে বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব বিমানের টিকিট কেটে চলে আসুন। প্রথম ফ্লাইটেই চলে আসুন।অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের আরেক শীর্ষ নেতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন ড. ইউনুস। নাহিদকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সে কেবল একজন ব্যক্তি নয়, সে নিজেই একটি ইতিহাস।

নিরাপত্তা বাহিনীর চরম দমনপীড়ন সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম যেভাবে ছাত্র আন্দোলন সফল করে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন, তার কৃতিত্ব দেন ড. ইউনুস। তিনি বলেন, ‘তারা সব ধরনের চেষ্টা করেছিল। মানুষ হত্যা করেছে, তাদের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে। তিন সপ্তাহে রাজপথে ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তারা সেখানেই ছিল এবং নাহিদ ছিল সবার সামনে।