ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল ডিবি হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকে জামিন না দেওয়ায় জেল সুপারকে শোকজ বিচারকের তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়ে ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রেতা ছিলেন: ফজলুর রহমান মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় তথ্য গোপন নয়, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ জাকির নায়েকের সঙ্গে আজহারির সাক্ষাৎ, উপহার পেলেন ‘বিশেষ আতর’ আবারও বাড়ল নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের ক্লাব রুমের নাম ফলক ভাঙচুর ইরানের সরকার পতন ও হামাস-হিজবুল্লাহকে নির্মূল করব: নেতানিয়াহু

কাঁধে বহনযোগ্য চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতের পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) সংগ্রহ করছে ইরান। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান সর্বোচ্চ ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রথম চালান হাতে পেতে পারে। সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস) কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ১২ এবং এফএন১৬ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এ চুক্তিতে ইরান ও চীনা সরবরাহকারীর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালেও দেশটির সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো রক্ষায় সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। সেই অভিজ্ঞতার পরই স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করে বলেছে, এ ধরনের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রেখে আসছে।

সূত্রগুলোর দাবি, দুই পক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে চালান পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে পরিবহণ পুরোপুরি আকাশপথে হবে, নাকি স্থলপথও ব্যবহার করা হবেতা স্পষ্ট নয়। এদিকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ বিষয়ে যেকোনো জল্পনাকেসম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়াবলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে স্থানান্তর করা যায় এবং ছোট দল দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে স্থায়ী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারির তুলনায় এগুলো শত্রুর হামলায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নিম্ন উচ্চতায় উড়তে থাকা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রতিরোধে এসব ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর।

ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরান কিউডব্লিউ১২, কিউডব্লিউ১৮ এবং কিউডব্লিউ১৯ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহী ছিল। পাশাপাশি পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈতব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি গোপনে সরবরাহের জন্য চীন ও ইরান স্থলপথ ব্যবহারের বিকল্পও বিবেচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইরানের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং তেহরান ও বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহের সময়সূচি, পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এখনো পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

কাঁধে বহনযোগ্য চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

আপডেট সময় ০৪:০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতের পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) সংগ্রহ করছে ইরান। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান সর্বোচ্চ ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রথম চালান হাতে পেতে পারে। সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস) কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ১২ এবং এফএন১৬ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এ চুক্তিতে ইরান ও চীনা সরবরাহকারীর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালেও দেশটির সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো রক্ষায় সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। সেই অভিজ্ঞতার পরই স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করে বলেছে, এ ধরনের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রেখে আসছে।

সূত্রগুলোর দাবি, দুই পক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে চালান পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে পরিবহণ পুরোপুরি আকাশপথে হবে, নাকি স্থলপথও ব্যবহার করা হবেতা স্পষ্ট নয়। এদিকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ বিষয়ে যেকোনো জল্পনাকেসম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়াবলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে স্থানান্তর করা যায় এবং ছোট দল দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে স্থায়ী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারির তুলনায় এগুলো শত্রুর হামলায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নিম্ন উচ্চতায় উড়তে থাকা যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রতিরোধে এসব ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর।

ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরান কিউডব্লিউ১২, কিউডব্লিউ১৮ এবং কিউডব্লিউ১৯ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহী ছিল। পাশাপাশি পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈতব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি গোপনে সরবরাহের জন্য চীন ও ইরান স্থলপথ ব্যবহারের বিকল্পও বিবেচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইরানের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং তেহরান ও বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহের সময়সূচি, পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এখনো পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স