ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে চাপ তৈরির এই বক্তব্যের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে—ক্ষমা না চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে যেখানে ১ হাজার ৭৮০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে ঘটেছে ১ হাজার ৭৮৯টি।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও আগের সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে বলে সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা ও নৌকাবাইচ বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয়েছেন—তা জানতে চান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি প্রশ্ন, নাকি পল্টনের বক্তৃতা—তা তিনি বুঝতে পারেননি।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, সেটি একটি প্রশ্ন। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটি ভিন্ন বিষয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং তা দৃশ্যমান। বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে সংসদে এই বক্তব্যের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয় প্রতিবাদ।
শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। কয়েক শ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। পরে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি সমাবেশে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে সংসদে সঠিক তথ্য তুলে না ধরে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, হাসনাত আবদুল্লাহ প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কর্মসূচি রয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণায় এরই মধ্যে জেলায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো এনসিপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বক্তব্যের প্রতিবাদে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ডেস্ক রিপোর্ট 























