ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘কোড অব কনডাক্ট’ থাকা উচিত। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার আওতায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ৬১তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘ফ্রেশার্স রিসেপশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’-এ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা নয়, বরং তা নিরাময় করতে হবে।’ এ লক্ষ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে কিছু দাবি জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের নিজস্ব আদর্শ তুলে ধরতে পারবে। শিক্ষার্থীরা সেই আদর্শ গ্রহণ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে দলীয় স্বার্থসেবা প্রসঙ্গে শিবির সভাপতি বলেন, এটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও তা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে হতে হবে।
অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেন, দেশের নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশকে কীভাবে সাজাতে হবে, সে বিষয়ে জানতে হবে। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশকে স্বাধীনভাবে ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি তৈরিতে ঘাটতি। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
শিশির মনির বলেন, জিন্দাবাদ-মুর্দাবাদ স্লোগানের চেয়ে দেশকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানে এগিয়ে নেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রচলিত ছাত্ররাজনীতি তরুণদের মধ্যে এক ধরনের ‘বন্ধ্যাত্বের পরিবেশ’ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের কাউকে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো সংগঠনকেই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ না দিয়ে স্বাধীন মন নিয়ে বেড়ে উঠতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















