ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কওমি শিক্ষার্থীরা সরে দাঁড়ালেও শিল্পকলায় এনসিপির অনুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৭ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আমার কাছে সবসময় প্রিয়: রাশেদ খাঁন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসনাত বিপৎসীমায় কাপ্তাইয়ের পানি, খুলে দেওয়া হচ্ছে ১৬ জলকপাট বাইকে দুই তরুণের মাঝে বসে ভাইরাল, থানায় এসে যা বললেন সেই তরুণী ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে আ.লীগ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মিলল ভয়ংকর তথ্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা বললেন রাশেদ খান বন্যায় ভেসে এলো সিন্দুক, খুলতেই মিলল ৭৫ লাখ টাকা 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসনাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। তবে ওই বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি দুঃখিত।

হাসনাত অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো—এমন মন্তব্য করে মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় সেখানকার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধের ঘটনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। শিক্ষার্থীরা শুধু শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তার দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তবে নৌকাবাইচের বিষয়ে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবর্তে ভুল করে সিলেটের কথা বলেছিলেন। এ কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন। তার ভাষায়, জুলাই এমন একটি সর্বজনীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে ধর্ম, মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও কেউ কারও ওপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—এখানে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সংগীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে।’

তার মতে, যার যে আয়োজন পছন্দ, সে সেখানে অংশ নেবে; আর সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে—কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে না পারে।

এর আগে শুক্রবার রাতে হাসনাতের সংসদীয় বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। পাশাপাশি ক্ষমা না চাইলে জেলায় এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কওমি শিক্ষার্থীরা সরে দাঁড়ালেও শিল্পকলায় এনসিপির অনুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসনাত

আপডেট সময় ০৪:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। তবে ওই বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি দুঃখিত।

হাসনাত অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো—এমন মন্তব্য করে মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় সেখানকার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধের ঘটনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। শিক্ষার্থীরা শুধু শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তার দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তবে নৌকাবাইচের বিষয়ে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবর্তে ভুল করে সিলেটের কথা বলেছিলেন। এ কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন। তার ভাষায়, জুলাই এমন একটি সর্বজনীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে ধর্ম, মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও কেউ কারও ওপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—এখানে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সংগীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে।’

তার মতে, যার যে আয়োজন পছন্দ, সে সেখানে অংশ নেবে; আর সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে—কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে না পারে।

এর আগে শুক্রবার রাতে হাসনাতের সংসদীয় বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। পাশাপাশি ক্ষমা না চাইলে জেলায় এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণাও দেওয়া হয়।