এবার নেপালে ভয়াবহ বন্যার পানিতে ভেসে আসা একটি সিন্দুক ভেঙে পাওয়া গেছে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭৪ লাখ ৯১ হাজার ৫২৩ টাকা। সিন্দুক ভেঙে টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পুরো অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের ধাদিং জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাসুওয়ার ভোতেকোশি এলাকায় বন্যার পানিতে সিন্দুকটি ভেসে যায়। পরে ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলা এলাকায় ত্রিশূলী নদীর তীরে সেটি পাওয়া যায়।
ধাদিং পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কয়েকজন সিন্দুকটি ভেঙে ভেতরে থাকা টাকা নিয়ে গেছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে ২৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭৪ লাখ ৯১ হাজার ৫২৩ টাকা। আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই গালছি–৪ এলাকার মাস্তার এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কয়েকজন গালছি–৬–এর আদমঘাট এবং সিদ্ধলেখ–৭–এর আদমতার এলাকার বাসিন্দা। অন্যদের বাড়ি চিতওয়ান ও পারসায় হলেও তারা বর্তমানে ধাদিংয়ে বসবাস করছেন।
সিন্দুকটি কার এবং এর ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অর্থের প্রকৃত মালিকের সন্ধান এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে নেপালের ভয়াবহ বন্যাকে ঘিরে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে সোনার দুল খুলে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণী নদীতে ভেসে যাওয়া ওই নারীর মরদেহ থেকে দুজন সোনার দুল খুলে নিচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বন্যায় হতাহত ও নিখোঁজের নতুন হিসাব প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিশ্চিতভাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২৪ জন। এক দিনের ব্যবধানে নিখোঁজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫১৭ জনই রয়েছে। বন্যার তিন দিন পর এই নতুন হিসাব প্রকাশ করা হয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























