ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এ্যানির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বিএনপি নেতা হাশরের ময়দানে শুধু দাঁড়িপাল্লা মার্কা থাকবে: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে বিএনপি বেশি আসনে জিতবে বলে মনে করছে ৬৬ শতাংশ মানুষ চীনে ঘুষ নেয়ার অপরাধে সাবেক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন পয়েন্টে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়া হবে: তারেক রহমান পদত্যাগের পরপরই দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিষয়ে দুদকের তদন্ত চায় সাবেক সমন্বয়করা ১০ বছর নিঃসন্তান, একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন নারী বিএনপির প্রার্থী ফজলুরকে নিয়ে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক রাবি শিক্ষকের পোস্টে বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ আখ্যা, ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র সমালোচনা জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আবারও দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবে বিএনপি: তারেক রহমান

সম্ভাব্য ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—এখনই প্রস্তুতির সময়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪১৮ বার পড়া হয়েছে

গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এই উদ্বেগ জানানো হয়। সেমিনারের আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের নিচে তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল থাকায় দেশটি ভূমিকম্পের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট—এই তিন ফল্ট লাইনের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি। ২০১৬ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়ও গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার মেগাথার্স্ট ফল্টে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।

গত ১০০ বছরে দেশে ২০০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর কম্পনের মাত্রা বেড়েছে—যা বিশেষজ্ঞদের মতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত। দ্রুত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন কাঠামো, বিল্ডিং কোড অমান্য এবং সংকীর্ণ সড়ক—এসব কারণে বড় ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সেমিনারে অংশ নেন দেশি–বিদেশি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, স্থপতি, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি। জাপানের ভূমিকম্প–সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা ভূমিকম্প পরবর্তী জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপদ ভবন নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন—

  • ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ
  • বিদ্যমান ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট
  • বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ
  • জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা
  • নাগরিকদের নিয়মিত ড্রিল ও পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতি

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় অনুভূত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প দেশের ঝুঁকি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—এই তিন স্তম্ভ শক্তিশালী হলেই আমরা বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারব।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এ্যানির নির্বাচনী উঠান বৈঠকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বিএনপি নেতা

সম্ভাব্য ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—এখনই প্রস্তুতির সময়

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এই উদ্বেগ জানানো হয়। সেমিনারের আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের নিচে তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল থাকায় দেশটি ভূমিকম্পের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট—এই তিন ফল্ট লাইনের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি। ২০১৬ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়ও গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার মেগাথার্স্ট ফল্টে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়।

গত ১০০ বছরে দেশে ২০০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর কম্পনের মাত্রা বেড়েছে—যা বিশেষজ্ঞদের মতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত। দ্রুত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন কাঠামো, বিল্ডিং কোড অমান্য এবং সংকীর্ণ সড়ক—এসব কারণে বড় ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সেমিনারে অংশ নেন দেশি–বিদেশি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, স্থপতি, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি। জাপানের ভূমিকম্প–সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা ভূমিকম্প পরবর্তী জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপদ ভবন নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন—

  • ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ
  • বিদ্যমান ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট
  • বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ
  • জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা
  • নাগরিকদের নিয়মিত ড্রিল ও পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতি

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় অনুভূত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প দেশের ঝুঁকি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—এই তিন স্তম্ভ শক্তিশালী হলেই আমরা বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারব।”