রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনলাইন একটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি স্ট্যাটাসে বর্ণনা করেছেন, যৌবনে প্রিয় মানুষকে হারানো, বার্ধক্যে সন্তানদের দূরত্ব এবং এক সন্তানকে অনিবার্য শূন্যতায় বিদায় জানানো—এসবকে পেরিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক সংগ্রামী।
পিনাকী লিখেছেন, “উপমহাদেশের দীর্ঘ ও ক্লান্ত ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছিলেন এক নারী, বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শুধু রাজনৈতিক চরিত্র নন; বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করা এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর পদচারণায় বদলে গেছে দেশের রাজনীতির ধারা, এবং তার দৃঢ়তায় এক প্রজন্ম খুঁজে পেয়েছে অহংকার, স্বাধীনতার স্পর্শ ও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার জীবন ছিল রাজনৈতিক সংগ্রামের ময়দান। শোক, কষ্ট ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন—যেখানে ছিল এক অদম্য শক্তি। “ডিসেন্সি ছিল তার কবচ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল তার অস্ত্র, আর দুর্নীতির কালিমা থেকে দূরে থাকার অদম্য সাহস তাকে তুলে এনেছিল এমন এক উচ্চতায় যা এখনো কোন বাংলাদেশির পক্ষে অতিক্রম করা দুরূহ।”
পিনাকী বলেন, “তিনি যে দলের নেতা ছিলেন, সেই দল তার মতো নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেনি। একাই তিনি দলকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন—যেখানে অনুসারীরা বুঝতে পারেনি যে শিখরে দাঁড়িয়ে আছেন এক নারীর দৃঢ়তার নির্মাণে। তাঁর সংগ্রাম ও সংগ্রামী জীবনের মহাকাব্যের ট্র্যাজেডি হলো, নিজের দলে যোগ্য উত্তরাধিকার না পাওয়া।”
স্ট্যাটাসে পিনাকী উল্লেখ করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ের দিনও সাধারণ হবে না। “সেদিন ইতিহাসের বাতাসও থমকে দাঁড়াবে। হাজার তরুণ একসময় দূর ভবিষ্যতে তার জীবনগাথা পড়বে এবং অনুভব করবে—একজন নারী মাতৃরূপে জাতির বুকে ঢেলে দিয়েছেন নিরাপত্তা, দৃঢ়তা ও অটল সাহস। তার উপস্থিতি ছিল নক্ষত্রের মতো আলোকময়, প্রস্থানও হবে নক্ষত্রের মতোই, অটুট দীপ্তি ছড়িয়ে অনন্ত নক্ষত্রের দিকে উড়াল দিবে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 



















